সন্তুষ্ট ক্লাব, অসন্তুষ্ট ফুটবলাররা

প্রিমিয়ার লিগ বাতিল

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২০     আপডেট: ১৯ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আর্থিক সংকটের কথা বলে লিগ বাতিলের দাবি গত মাসেই তুলেছিল ক্লাবগুলো। তাদের সেই দাবি রোববার পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রিমিয়ার লিগ বাতিলের ঘোষণা করেছে বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটি। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম বাতিল হওয়ায় স্বস্তি ক্লাব কর্মকর্তাদের মুখে। নতুন মৌসুমের জন্য নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজাতে পারবে ক্লাবগুলো। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারার আনন্দ যেমন ক্লাবগুলোর মধ্যে, তেমনি করে লিগ বাতিল হওয়ায় অজানা এক শঙ্কার মুখে ফুটবলাররা। ক্লাবের কাছে নিজেদের পাওনা নিয়ে উদ্বিগ খেলোয়াড়রা। মৌসুমের জন্য চুক্তিভিত্তিক ফুটবলাররা দ্রুতই তাদের পাওনা নিয়ে একটা সমাধান চান।

ছয় মাস আগেই ফুটবল মৌসুম বাতিল। এ অবস্থায় বেকায়দায় পড়েছেন ফুটবলাররা। প্রিমিয়ার লিগের ১৩ ক্লাবের দু-একটি ছাড়া বাকিগুলো নামকওয়াস্তে অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে ফুটবলারদের মাঠে নামিয়েছিল। অনেক ক্লাবই দাবি করে আসছে, তারা ফুটবলারদের ৮০ ভাগ বেতনই পরিশোধ করেছে। কিন্তু কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এর উল্টোটা। জাতীয় দলে খেলা এমন কয়েকজন ফুটবলার ছাড়া বাকিদের ২০ ভাগের মতো টাকা দিয়েছে ক্লাবগুলো। মৌসুম শেষ হওয়ায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ফুটবলাররা। তাদের বকেয়া পাওনা নিয়ে কী হবে তার উত্তর জানা নেই বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তপু বর্মণের।

গতকাল সমকালের সঙ্গে নিজের হতাশার কথা এভাবেই বলেন তিনি, 'অবশ্যই এটা (পাওনা) নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে। কারণ ক্লাবের সঙ্গে আমাদের চুক্তিটা হয় মৌসুমভিত্তিক। প্রতি মৌসুমে খেলার জন্য চুক্তির অগ্রিম কিছু টাকা আমরা পাই। ধাপে ধাপে বাকিটাও পাই। কিন্তু এখন তো লিগ বাতিল হয়ে গেছে। আমরা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছি। কীভাবে বাকি পেমেন্ট পাব, এটা নিয়ে ক্লাব এবং ফুটবলারদের সঙ্গে একটা সমঝোতার প্রয়োজন আছে। কারণ ফুটবল খেলে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আমাদের পরিবার চলে। এখন লিগ পরিত্যক্ত হওয়ায় পাওনা নিয়ে আমরা অন্ধকারে পড়ে আছি। ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা শঙ্কা কাজ করছে। আগামী মৌসুমে কী হবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা। সব মিলিয়ে আমি মনে করি, আমাদের দেশি ফুটবলাররা খুবই চিন্তিত। এই মুহূর্তে আমাদের এখন দুটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। প্রথমত ফিটনেস,দ্বিতীয়ত আর্থিক বিষয়টা।'

করোনাভাইরাসের মধ্যেও জার্মানিতে শুরু হয়েছে বুন্দেসলিগা। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও লিগ শুরু হওয়ার পথে। এমন অবস্থায় প্রিমিয়ার লিগ বাতিল করায় হতাশ তপু। তার মতে, আরেকটু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত 'আসলে লিগ বাতিল করায় আমরা খুবই হতাশ। আমরা প্রতি বছরেই চেয়ে থাকি প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য। লিগ সামনে রেখে সারা বছর প্রস্তুতিও নিই। এভাবে লিগ বাতিল হওয়াটা অবশ্যই কষ্টের। এখন মৌসুম বাতিল হওয়ায় আমাদের বসে থাকতে হবে। এটা যেমন আমাদের ফিটনেসের জন্য সমস্যা, তেমনি করে মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটাবে। আমরা ফুটবলার, খেলতে ভালোবাসি। এখন খেলা না থাকলে আপনার খারাপ তো লাগবেই। 'চাইলে ক্লোজড ডোরে হলেও আমাদের লিগটা চালু করা যেতে পারত।'

তপুর মতো একই সুর আবাহনী ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবনের কণ্ঠেও, 'ফুটবল ছাড়া জীবনটা কতটা কষ্টের তা বলে বোঝানো যাবে না। আমরা খুব করে চেয়েছিলাম লিগটা হোক, এখন বাতিল হয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশ। সিদ্ধান্তটা আরেকটু পরে নিলে ভালো হয়। চুক্তি নিয়ে অবশ্যই ক্লাবের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কারণ আমরা তো পুরো মৌসুমের টাকাটা এখনও পাইনি। এটা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। সত্যিকার অর্থে এভাবে লিগটা বাতিল হয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি দেখেন আমাদের দেশে ফুটবলার তৈরি হতে হতে লাগে ২২-২৩ বছর। আপনি খেলার সুযোগ পাবেন ৮-১০ বছর। তার মধ্যে যদি একটি বছর চলে যায়, তাহলে আপনার ফুটবল ক্যারিয়ারে আর কী থাকে?'

লিগ বাতিল হয়ে গেছে। আমরা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছি। কীভাবে বাকি পেমেন্ট পাব এটা নিয়ে ক্লাব এবং ফুটবলারদের সঙ্গে একটা সমঝোতার প্রয়োজন আছে। কারণ ফুটবল খেলে যে টাকা পাই, তা দিয়ে আমাদের পরিবার চলে। এখন লিগ পরিত্যক্ত হওয়ায় পাওনা নিয়ে আমরা অন্ধকারে পড়ে আছি। ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা শঙ্কা কাজ করছে।

তপু বর্মণ

ডিফেন্ডার বসুন্ধরা কিংস

এভাবে লিগটা বাতিল হয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি দেখেন, দেশে ফুটবলার তৈরি হতে লাগে ২২-২৩ বছর। আপনি খেলার সুযোগ পাবেন ৮-১০ বছর। তার মধ্যে যদি একটি বছর চলে যায়, তাহলে আপনার ফুটবল ক্যারিয়ারে আর কী থাকে?'

নাবিব নেওয়াজ জীবন


ফরোয়ার্ড আবাহনী