ফুটবলারদের জন্য 'করোনা' বীমা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০     আপডেট: ২২ জুন ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

শাখাওয়াত হোসেন জয়

ছবি: ফাইল

ছবি: ফাইল



বসুন্ধরা কিংসের জাতীয় দলের ফুটবলার মাসুক মিয়া জনি ইনজুরিতে পড়ার পর তার চিকিৎসার খরচের জন্য ফিফার দ্বারস্থ হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অর্থ এবং বসুন্ধরার সাহায্যে অপারেশন করা জনি এখন ফুটবলে ফেরার অপেক্ষায়। চিকিৎসার জন্য তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তার মতো আরও অনেক ফুটবলার আছেন, যারা ইনজুরিতে পড়লে চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। জাতীয় দলের কোনো ফুটবলার চোটে পড়লে বাফুফেকে তাকিয়ে থাকতে হয় ফিফার দিকে। যে কারণে জাতীয় দলের ফুটবলারদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। জাতীয় দলের ৩৫ এবং নারী দলের ৫২ ফুটবলারসহ মোট ৮৭ ফুটবলারকে বীমার আওতায় আনার কাজটি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাফুফে। চলতি মাসে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলার কথা ফেডারেশনের।

ফুটবলারদের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই বীমা করার উদ্যোগ নেয় বাফুফে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সেই কার্যক্রম থমকে যায়। বৈশ্বিক মহামারিতে বিশ্বের অনেক নামিদামি ক্রীড়াবিদ আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাফিস ইকবাল ও নাজমুল ইসলাম অপু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশীয় ক্রীড়াবিদরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বাফুফে জামাল ভূঁইয়াদের জন্য 'করোনা' বীমার আওতায় আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই কাজটি ইতিমধ্যে করেছে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

দেশটি তাদের ৩৫ জন নারী ও সমান পুরুষ ফুটবল খেলোয়াড়কে নিয়ে এসেছে করোনা বীমার আওতায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে করে কোনো ফুটবলার করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের পুরো চিকিৎসার ভার বীমা কোম্পানি বহন করে। শুধুমাত্র ফুটবলাররাই নন, বীমার আওতায় আসছেন কোচিং স্টাফরাও।

ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয় ছাড়াও ফুটবলারদের পরিবারের কথা চিন্তা করে তাদের বীমার আওতায় আনতে যাচ্ছে বাফুফে। জাতীয় দলের ফুটবলাররা বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। ক্লাব থেকে তাদের যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে। ইনজুরিতে পড়ে গেলেই সমস্যায় বেশি পড়ে যান ফুটবলাররা। আবার গুরুতর ইনজুরিতে পড়লে কোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যায়। এসব কিছু চিন্তা করেই ফুটবলারদের বীমার আওতায় আনার পরিকল্পনা বাফুফের। এই প্রসঙ্গে বাফুফের হেড অব মার্কেটিং এটিএম তারেক বলেন, 'ফুটবলারদের বীমার আওতায় আনার কাজটি আমরা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলাম; কিন্তু করোনার কারণে সবকিছু থমকে যায়। এখন যেহেতু করোনা, তাই ফুটবলারদের জন্য 'করোনা' বীমাও করছি আমরা। তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। একটির সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আশা করি, চলতি মাসেই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়ে যাবে।'

বীমায় ফুটবলাররা কী কী সুবিধা পাবেন, তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারেক, 'কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে তার চিকিৎসা কিংবা সাধারণ কোনো অসুখ হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা, বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়ে ক্যারিয়ার শেষ হলে তার জন্য আলাদা বীমা এবং কোনো খেলোয়াড় মারা গেলে তাতে তার পরিবার যেন সমস্যায় না পড়ে, এসব কিছু থাকবে। এখন যেহেতু করোনাভাইরাস, কোনো ফুটবলার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার পুরো চিকিৎসার খরচ বহন করবে বীমা কোম্পানি।'