ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ছবি ও গপ্পো

যেভাবে ছায়া হয়ে গেলাম

যেভাবে ছায়া হয়ে গেলাম

.

লেখা ও ছবি মাহিতা তাজমিন কাইয়ুম

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৩ | ২১:৪৭

আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ উজ্জ্বল সোনার কাঠির মতো আকাশকে দুই ভাগে ভাগ করছে। শহর বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকে রাস্তায় পড়ে থাকা ছোট পাথর পর্যন্ত। প্রবল বাতাস আমার হাত থেকে ছাতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারছি না। একটি জেব্রা ক্রসিং ধরে আমি রাস্তার ওপাশে যাই। ছোট পাখি, বিড়াল এবং অন্যান্য ছোট প্রাণি বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গাছের নিচে বা সিঁড়ির আড়ালে আশ্রয় নিয়েছে।  হঠাৎ জোরে বিদ্যুৎ চমকে ওঠে, এতে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। দ্রুত এক গলি পথে ঢুকে যাই। একটু পরেই এ পথ ধরে আমি বাড়ি পৌঁছাবো।
গলি পথের পাশের দেয়ালে চলচ্চিত্রের পোস্টার ও দেয়াল চিত্র আঁকা, যা বৃষ্টির পানিতে উঠে যাচ্ছে। হাঁটার সময় হঠাৎ মনে হয়, কেউ যেন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।
পেছনে তাকিয়ে ৭ ফুট লম্বা ছায়া দেখতে পাই। কোত্থেকে এলো? আমি জানি না। ফের দ্রুত হাঁটতে শুরু করলাম। আমার হৃৎস্পন্দন বাড়তে থাকে। গলি থেকে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকাই, আকাশ অন্ধকার। কিছু দেখা যাচ্ছে না। রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। ল্যাম্প পোস্টের আলোয় আমি পেছনে আবার তাকাই। যা দেখতে পাই, তাতে আমার হৃৎপিণ্ড ভয়ে থেমে যায়! 
সেই ছায়াটি এমন একটি রাক্ষসের মতো ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। ভয়ে আমার শরীর অসাড়! দৌড়াতে চেষ্টা করি। কিন্তু ছায়াটি লম্বা হাত দিয়ে আমাকে ধরে রেখেছে। আমি চোখ বন্ধ করি। ভাবি, নিশ্চয়ই মরে যাব। একটু পর যখন চোখ খুলি, দেখি অনেক রাত হয়েছে, আকাশে কোনো তারা নেই। হাত নাড়াতে গিয়ে দেখি, আমার শরীর বাতাসের চেয়েও হালকা। দাঁড়িয়ে ল্যাম্প পোস্টের আলোয় আমার হাতের দিকে তাকাই। একি, আমি ছায়া হয়ে গিয়েছি!
 বয়স : ১+২+২+৪+৪ বছর; সপ্তম শ্রেণি, সাউথব্রীজ স্কুল, ঢাকা

আরও পড়ুন

×