আমি যখন ভুগতে থাকি
একশ, দুই-তিন জ্বরে
কোত্থেকে মা এসে হাজির
তখন আমার ঘরে।

আমি যখন আবোল-তাবোল
কতই কিছু বলি
টুক করে মা আসেন আবার
টুক করি যান চলি।

শিয়রে বসে কপালে দেন
আলতো করে চুমো
ঘুমের পরী এসে কখন
পাড়িয়ে দেন ঘুমও।

পিঠ ও মাথায় চলতে থাকে
হাতটা অবিরত
সেবা দিতে পারে এমন
কেউ কি মায়ের মতো?

এপাশ-ওপাশ করতে থাকি
মায়ের পরশ পেয়ে
কপালে জলপট্টি দিয়ে
মা যে থাকেন চেয়ে।

পায়ের পাতায় হাত বুলিয়ে
ঠান্ডা কী না দেখে
নকশিকাঁথা আলতো টেনে
পা দুটো দেন ঢেকে।

পরক্ষণেই কপালে হাত
জ্বর পরিমাণ কতো
খাটে বসে মাথা নাড়েন
চিকিৎসকের মতো।

চিন্তিত খুব মা তখনই
কপালখানা ছুঁয়ে
ভাব সাগরে পাড়ি দিত
তার মাথাটা নুয়ে।

হাতটা বুলান, চুলের ভেতর
মন্ত্র পড়েন মুখে
অশুভ সব কর্ম যতো
মা দিতে চান রুখে।

আবোলতাবোল বকতে থাকি
ভীষণ রকম জ্বরে
বন্যা এসে বাসা বাঁধে
মায়ের দু-চোখ ভরে।

মা মা বলে কাঁদতে থাকি
জোরে আরও জোরে
ঘুম ভেঙে যায় হঠাৎ করে
পাখি ডাকা ভোরে।

মা চলে যায় কোথায় তখন
কেউ জানি না আজও
মায়ের ছায়া ছাড়া সফল
কেউ হয়নি আজও।

- ছবি এঁকেছেন রজত

বিষয় : মা দিবস ২০২২ ছড়া-কবিতা

মন্তব্য করুন