প্রতিবন্ধীরা কারও দয়া চায় না, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। দক্ষতা অর্জন করে স্বনির্ভর হতে চায়। ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। জন্মগত ত্রুটি বা অন্যান্য কারণে তারা সাধারণ মানুষ থেকে কিছুটা আলাদা। তবে ভালোবাসা, বিশেষ যত্ন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে প্রতিবন্ধীরাও দেশের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হবে। ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধীরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। এ মুহূর্তে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বাড়ানো দরকার সচেতনতা। বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে গত ৭ ডিসেম্বর সমকাল, ডেইলি স্টার ও প্রেরণা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কল্যাণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ' শীর্ষক বিশেষ সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় প্রেরণা ফাউন্ডেশনের 'অগ্রগতির অনুপ্রেরণা' নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়

মুস্তাফিজ শফি
প্রতিবন্ধীদের অনেক কাজ বাংলাদেশে হচ্ছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয়হীনতার কারণে এর সুফল প্রতিবন্ধীদের ঘরে উঠছে না। আমরা মনে করি, শুধু পত্রিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমাদের দায় শেষ হয় না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ চাই। আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধীবান্ধব একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে আরও সুন্দর পরিবেশ দরকার। শুধু দান-দাক্ষিণ্যই নয়, তারা যেন তাদের অধিকার নিয়েই বাঁচতে পারে। এটা আমাদের সবার এজেন্ডা। স্বাধীনতার একেবারে সুবর্ণজয়ন্তীতে আছি আমরা। সবাই মিলে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার ক্ষমতায় আছে। সবাই মিলে কাজ করলে প্রতিবন্ধীরা এগিয়ে যাবেন।

মাহফুজ আনাম
আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তা প্রতিবন্ধীদের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য প্রথমেই মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের চাইতেও দক্ষ। সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমে তাদের মর্যাদাবোধ বাড়াতে হবে। আমরা যদি তাদের চাকরি না দিই, বিভিন্ন কাজে যদি তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দিই, তাহলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারবেন না। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা দিতে হবে। তারা যেভাবে পৃথিবীকে দেখেন, আমরা সেভাবে দেখতে পারি না। সামাজিক মূল কর্মকাণ্ডে তাদের নিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে ডেইলি স্টার ও সমকাল কাজ করবে।

জুয়েনা আজিজ
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে অন্য নাগরিকদের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমসুযোগ ও অধিকার দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ দায়-দায়িত্বের অংশ হিসেবে ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়টি দেখা। বঙ্গবন্ধু এটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এটি সহমর্মিতা দিয়ে অনুভব করেন। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন চার ধরনের প্রতিবন্ধী নিয়ে কাজ করছেন। এরকম মানুষকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের নজরে এনেছেন তিনি। এসডিজির মূল বিষয় কাউকে পেছনে ফেলা নয়। এসডিজিতে প্রতিবন্ধীদের মূল স্রোতধারায় আনার বিষয়টি আছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ও আছে। নগরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষরা কীভাবে চলবে, সে বিষয়টিও আছে। অংশীদারিত্বের বিষয় আছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মন্ত্রণালয়গুলোর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের কথা মাথায় রেখেই করা হচ্ছে। হতাশার কিছু নেই। সরকার তৎপর। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য শতভাগ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য ডাটাবেজ করা হয়েছে। সেখানে ১৯ লাখেরও বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য আছে। যখনই একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নজরে আসছে তার বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেখানে কার কী পেশা সব দেওয়া আছে। কোন ধরনের প্রতিবন্ধী তা ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তথ্যভান্ডার সবার জন্য উন্মুক্ত। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি শুধু দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। সচেতনতাটা জরুরি। সচেতনতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে মিডিয়া। করোনাকালে সাধারণ মানুষ যে রকম সমস্যায় পড়েছেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য তা আরও কষ্টকর। প্রধানমন্ত্রী এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছেন। সেখানে উপকারভোগীদের মধ্যে প্রতিবন্ধীরাও আছেন। সরাসরি এই টাকা তাদের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা আছে তাদের পড়াশোনার জন্য। অটিজম কিংবা মানসিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ করার কারণে প্রতিবন্ধীদের সুবিধা হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি হয়েছে, অ্যাপস তৈরি হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদান বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সব কিছু মনিটর করছেন। সবাই মিলে যদি কাজ করি প্রতিবন্ধীদের জন্য বাংলাদেশ বাসযোগ্য হবে। অনেক প্রতিবন্ধী কিন্তু পাহাড়েও উঠে যাচ্ছেন। তাদের সাফল্য আমরা দেখছি। তারা রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন। সবাই মিলে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সরকার যতটা সম্ভব করছে। আমি মনে করি, চ্যারিটি ব্যক্তি উদ্যোগেই হয়। সবার সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন সহজ এবং আনন্দদায়ক হবে।

ডা. এ এম পারভেজ রহিম
প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইনে ১২ ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে। আমরা পাঁচ ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মূলত কাজ করি। এখানে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পার্সনরা প্রতি সোমবার মিলিত হই। অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করি। জাতীয় কমিটির আলোকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কমিটি আছে। অনেক সময় আমরা বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েও মিটিং করি। আমরা মূলত প্রতিবন্ধীদের মাঝে একমুখী প্রতিভা দেখতে পাই। যে ছবি আঁকতে চায় সে খুব সুন্দর ছবি আঁকে, যে বেহালা বাজায় সে সুন্দর বেহালা বাজায়। এ পর্যন্ত সাত হাজার ৪০০ শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। যাদের মৃদু ও মাঝারি রকম সমস্যা আছে, যেগুলো শিশুর সিরিয়াস সমস্যা, তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন স্কুলে আমরা ভর্তি করাচ্ছি। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা কাজ করছি, সমন্বয়হীনতার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কাজে কোনো ঘাটতি নেই। তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ফলে আমরা এখন উপজেলা পর্যায়ে মিটিং করছি। আমাদের ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান আছে। এখন দরকার বাস্তবায়ন। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাতেও বিষয়টি আছে। প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীকে মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মিয়া সেপ্পো
বাংলাদেশে সরকারের পাশাপাশি আইএলও, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএসহ বেসরকারি অনেক সংস্থা কাজ করছে। প্রতিবন্ধীদের মূল স্রোতধারায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সচেতনতা তৈরিতে মিডিয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রতিবন্ধীদের মূল জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে না। তাদের মূল স্রোতে আনতে হবে। তাদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা বাড়লে কর্মসংস্থান হবে। এতে দেশ এগিয়ে যাবে।

শফিকুল ইসলাম
দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, প্রতিবন্ধীদের প্রাপ্য অধিকার দিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে সমন্বয়ের যে যে ঘাটতি আছে, তা পূরণ করা দরকার। বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগের ক্ষেত্রে কী কী সমন্বয় দরকার, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বাংলাদেশে এখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে ৪০টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি আছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আইন দ্বারা কমিটি করা আছে। ১০৩টির মতো তথ্য ও সেবাকেন্দ্র আছে। সেগুলোর মাধ্যমে নানা রকম সেবা ও ভাতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ভাতাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে। এটি শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এ দায়িত্বের ভার অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও নেওয়া দরকার। নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আমরা যতটা দক্ষতা দেখাচ্ছি, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কিছুটা দুর্বলতা আছে। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যে আইন আছে, সবটির মধ্যেই একটি ভালো সমন্বয় দরকার। ৫০০-এর অধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন আছে। তৃণমূল পর্যায়ে এই সংগঠন ছড়িয়ে আছে। এসব সংগঠনের দক্ষতা বৃদ্ধি করা দরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যুব উন্নয়ন ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভর্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কোটা দেওয়া আছে। তবে সেখানে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রতিবছর আমাদের বাজেট হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বাজেট বাড়াচ্ছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও চাকরির ক্ষেত্রে যেন আরও সুযোগ তৈরি করা যায় সে বিষয়গুলো কিন্তু আমাদের সামনে তুলে আনতে হবে। মিডিয়া একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। সুযোগ পেলে তারা প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চায়। সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। পরিবেশ ও পাঠক্রম এবং অবকাঠামোর কারণে তারা সুযোগগুলো গ্রহণ
করতে পারছে না। আরও বেশি সমন্বয় প্রয়োজন। সবাই এগিয়ে এলে আইনে যে ১৬ ধরনের কর্মসূচির কথা আছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারব।

মুবিনা আসাফ
বাংলাদেশ সরকার তার কার্যাবলির মাধ্যমে বেশ তৎপরতার সঙ্গে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বিগত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১৬৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রেরণা ফাউন্ডেশন। প্রেরণা ফাউন্ডেশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জাতির মূলধারার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন এবং এর সামগ্রিক দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিতে আমাদের কিছু সমন্বিত লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করা দরকার; যা একই সঙ্গে আমাদের এসডিজি অর্জনের পথেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা 'অগ্রগতির অনুপ্রেরণা' শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করার পদক্ষেপ নিয়েছি।
'অগ্রগতির অনুপ্রেরণা' মূলত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার বা ডাটাবেজ, যার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সব তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। আমাদের লক্ষ্য হলো, বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল, বয়স ও সামাজিক শ্রেণির সব মানুষকে এই ডাটাবেজের আওতায় এনে একটি সামগ্রিক চিত্র দাঁড় করানো, যার মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং প্রাসঙ্গিক যে কোনো উদ্যোগ বা কার্যক্রম পরিচালনার প্রাথমিক ধারণা, তথ্য-উপাত্ত এবং কার্য গতিবিধি নির্ণয় করা আরও সহজ ও কার্যকরী হয়ে উঠবে। 'অগ্রগতির অনুপ্রেরণা' দেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের গোটা জীবনযাত্রার ধরনকে স্পষ্টরূপে তুলে ধরবে, যার ফলে ঠিক কোন জায়গাগুলোতে আমাদের আরও জোর দেওয়া উচিত, কোন সুযোগগুলোকে কাজে লাগানো উচিত এবং কীভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত, তা আমরা গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হবো।

ডা. মাজহারুল মান্নান
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে সরকার অনেক কাজ করছে। বাজেট আছে, মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। তবে ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেককে নিজের বিবেক জাগ্রত করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়ে সবাইকে চিন্তা করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়টি মানুষের চিন্তাধারায় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এ জন্য মিডিয়াকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

সঞ্চালক

মুস্তাফিজ শফি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
দৈনিক সমকাল

স্বাগত বক্তব্য

মাহফুজ আনাম
সম্পাদক ও প্রকাশক
ডেইলি স্টার

আলোচকবৃন্দ

জুয়েনা আজিজ
এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ডা. এ এম পারভেজ রহিম
প্রধান সমন্বয়ক
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অটিজম সেল
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়

মিয়া সেপ্পো
আবাসিক সমন্বয়কারী
বাংলাদেশে জাতিসংঘ
আবাসিক প্রতিনিধি, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)

শফিকুল ইসলাম
কান্ট্রি ডিরেক্টর
এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

মুবিনা আসাফ
পরিচালক, গভর্নিং বডি
প্রেরণা ফাউন্ডেশন

ডা. মাজহারুল মান্নান
প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক
ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)

অনুলিখন

জাহিদুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সমকাল

বিষয় : প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অধিকার ও মর্যাদা চায়

মন্তব্য করুন