চতুর্থ নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সমকালের যৌথ আয়োজনে গত ৪ ফেব্রুয়ারি 'বৈশ্বিক প্যানডেমিক প্রেক্ষাপটে নিরাপদ খাদ্য' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সমকাল কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন প্রধান অতিথি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব ড. নাজমানারা খানুম ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইউম সরকারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, দেশ এখন খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হয়নি। সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি ও সতর্ক তদারকি জোরদার করতে হবে, যা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত, বিপণন, সরবরাহ ও ভোক্তা পর্যন্ত জড়িত সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। এর কোনো এক পর্যায়ে সমস্যা হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হবে। এ জন্য সবাই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালালে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে
মুস্তাফিজ শফি

গত মার্চে করোনার শুরুতে একটি ভয় ছিল- চিকিৎসা এবং খাবার না পেয়ে মানুষ মারা যাবে। সেই অবস্থা সবাই মিলে পার করেছেন। আমাদের সে ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। সরকারের যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। এখন ওই অবস্থা থেকে অনেকটা বেরিয়ে এসেছি। আশা করি, করোনা থেকে সবাই পুরোপুরি কাটিয়ে উঠব। নিরাপদ খাদ্যের বিষয় দু'রকম। নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের অধিকার। খাবার পেলাম কিন্তু খাবার নিরাপদ নয়। তাহলে অধিকার কোথায় গেল! সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমকাল সচেতনতা বাড়াতে নিরাপদ খাদ্যের জন্য কাজ করছে। এই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একক কারও কাজ নয়। কারও একার পক্ষে সেটা সম্ভবও নয়। সবাইকে মিলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি ও সতর্ক তদারকি সংশ্নিষ্ট সব সংস্থাকে করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন ও ধারণা মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে।


মো. আব্দুল কাইউম সরকার

খাদ্যের তিনটি বিষয় কাজ করে- নিরাপত্তা, নিরাপদতা ও পুষ্টি। এতদিন উদ্বেগ ছিল, খাদ্য নিরাপত্তা দরকার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব কিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এখন প্রয়োজন নিরাপদতা। দেশ অনেক এগিয়েছে; আগামীতে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন উন্নত স্বাস্থ্য। এ ক্ষেত্রে খাবার নিরাপদ না হলে খাবার যতই খাওয়া হোক তাতে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে না। সুস্থ-সবল জাতি গঠন হবে না। এ জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। খাদ্যের নতুন পরীক্ষাগার স্থাপন করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করা হয়েছে, যাতে সুচারুভাবে এ কাজ করা সম্ভব হয়। বিদেশি সংস্থা এ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশ্বের অনেক দেশ আছে এ দেশ থেকে খাদ্য নিতে চায়। এ জন্য উৎপাদন পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে কৃষি, অ্যাকুয়া কালচার ও শিল্পের উৎপাদনে ইতিবাচক চর্চা করতে হবে। উৎপাদন থেকে ভোগ; সব পর্যায়ে নিরাপদ হতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্য বাড়বে। খাদ্য চেইনে কোথাও ত্রুটি থাকলে পুরো প্রক্রিয়া সমস্যায় পড়বে। এ জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। করোনাকালে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাধান করতে চায়। এ ক্ষেত্রে মনিটরিং টিম নিরাপদ খাদ্যের জন্য সহযোগিতা করছে। এর পরও না মানলে কঠোরভাবে সতর্ক করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাদ্য বিক্রিতে বিজ্ঞাপন প্রতারণা বন্ধে নীতিমালা করা হবে। এর পাশাপাশি আরও অনেক নীতিমালা হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়ন করে অনিরাপদ খাদ্যের দরজা বন্ধ করা হবে।

সাধন চন্দ্র মজুমদার

দেশে এক সময় খাদ্যের নিরাপত্তা ছিল না। তখন মঙ্গাপীড়িত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে খাদ্যে নিরাপত্তা অর্জন করেছি। এখন সরকার কাজ করছে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে। অনিরাপদ খাদ্যের কারণে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে। এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে, যা আইন দিয়ে সম্ভব নয়। বিভিন্নভাবে প্রচার অভিযান চালাতে হবে। ২০১৫ সালে ১৬ জন কর্মকর্তা নিয়ে যাত্রা শুরু করা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে জেলায় জেলায় অফিস করেছে। আগামীতে উপজেলায় অফিস করে কার্যক্রম বাড়ানো হবে। দেশে খাদ্য উৎপাদনে বিষ ও সার প্রয়োগ হবে না- এটা ঠিক নয়। তবে এটি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পরিমিত ও নিয়মমতো ব্যবহার করতে হবে। এতে খাদ্যে দূষণ হয় না। খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ, বাজারজাতকরণ, রান্নাঘর থেকে খাওয়া পর্যন্ত খাদ্য অনিরাপদ হতে পারে। এ জন্য সব পর্যায়ে সচেতন হতে হবে। খাদ্য প্রস্তুতকারকদের মানবিকভাবে সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়া প্রয়োজন। তাতে দেশ নিরাপদ হবে। শুধু আইন দিয়ে সম্ভব নয়। তবে চোর না শোনে ধর্মের কাহিনি। যারা ভেজাল দিয়ে এক খাদ্য অনিরাপদ করে ছাড়ে, আবার তারাই অন্য খাদ্য নিরাপদ পেতে চাইবে- এটা সম্ভব নয়। নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনে অনেক সময় ব্যয় বেশি হয়। ওই দাম দিয়ে ক্রেতা খেতে চায় না- অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় ভেজাল দিয়ে তৈরি সস্তা খাবার খাবে- এটা হয় না। এ জন্য সবাই সচেতন হয়ে ভেজাল দেব না, ভেজাল খাব না- এ বিষয়ে বদ্ধপরিকর হতে হবে। অনিরাপদ খাবার থেকে সরে আসতে হবে। এর পরও অসৎ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদারকি জোরদার করে সতর্ক করতে হবে। খাদ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৮টি মন্ত্রণালয় ও ৪৮৬টি সংস্থা। সব একসঙ্গে কাজ করলে এর সমাধান সম্ভব হবে। দেশের সবাই মিলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজকে মানবতার প্রশ্নে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের দুই শ্রেণির মানুষের কথা মানুষ ভালো শোনেন- শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ক্লাসের শুরুতে এবং মসজিদেও ইমাম সাহেবরা জুমার বয়ানের শুরুতে নিরাপদ খাদ্য সবাই মিলে কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বিষয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিলে সচেতনতা বাড়বে।

ড. নাজমানারা খানুম

নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। এখন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অনেক নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে। আইন বাস্তবায়ন ও কার্যকর করতেই এ বিধিমালা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩টি বিধি ও ৭টি প্রবিধিমালা করা হয়েছে। এটি কারও একার কাজ নয়। নিরাপদ খাদ্যের সঙ্গে জড়িত সব সংস্থা নিয়ে কাজ চলছে। খাদ্য অনিরাপদ যে কোনো পর্যায়ে হতে পারে। উৎপাদন ভালোভাবে হলেও বিভিন্ন পর্যায়ে ভেজাল হতে পারে। এটি রোধে সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। যারা ভেজাল দিচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আগে এত ভেজাল ছিল না। এখন নানাভাবে ভেজাল হচ্ছে। পানি ও মাটিদূষণে উদ্ভিদ ও প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন অনিরাপদ হচ্ছে। অতিমাত্রায় কীটনাশক ও নানা ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের হাসপাতালগুলোর সামনে মুখরোচক অনিরাপদ খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। আর এসব খাদ্য হাসপাতালের ডাক্তার বন্ধুরা খাচ্ছেন। তারা পরিহার করে সবাইকে আরও সচেতনতা বাড়াতে পারেন। অনেকেই অনেক খাদ্য নিরাপদ নয় জেনেও এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এসব বন্ধে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে ক্ষতিকারক উপাদানের পরিমিত আমদানি ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করতে হবে। এখন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। ভোক্তা সচেতন না হলে সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। এখন সবাই মিলে এ কাজে যুক্ত হতে হবে।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

মানুষের মৌলিক অধিকার ও বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও স্বাস্থ্য প্রধান উপাদান।

স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যাবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ খাদ্যের জন্য উৎপাদনে নজর দিতে হবে। খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ, সংরক্ষণ- সব পর্যায়ে নিরাপদ করতে হবে। খাদ্যের প্রক্রিয়া অনেক বেশি। এ প্রক্রিয়া যথাযথ না হলে নিরাপদ হবে না। উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকেই খাদ্য আসে। কৃষিজাত খাদ্য উৎপাদনে জমি কমে যাচ্ছে। এ কারণে নানা উপায়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। জমি এভাবে কমতে থাকলে নিরাপদ খাদ্যের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তায় ঘাটতি তৈরি হবে। এ জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। করোনা মহামারিতে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যের ঝুঁকি গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এটি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা সমস্যা কাটিয়ে উঠছে। ভেজাল ও বিষ দিয়ে খাদ্য উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। এমন কোনো খাদ্য নেই যেখানে ভেজাল নেই। এ জন্য এক হয়ে সচেতন হই। প্রাণী থেকে নানা রোগ ছড়াচ্ছে। বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাস ও মুরগি থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জীবাণু যাতে প্রাণিদেহে ছড়াতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটি না হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে না। করোনাও ছড়িয়েছে চীনে বন্যপ্রাণী থেকে। এটা প্রমাণিত হোক না হোক পরের কথা। এ ব্যাপারে সবাই সচেতন হতে হবে এবং সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সবাই মিলে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে। কৃষক, শ্রমিক, বিশেষজ্ঞসহ শ্রেণি-পেশার সব মানুষ মিলে চেষ্টা করলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

করোনা পরিস্থিতির বর্তমানে উন্নতি হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ। অনিরাপদ খাদ্যের কারণে রুগ্‌ণ স্বাস্থ্য হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে ভূমিকা রাখছেন। তবে তাদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ শক্তি হিসেবে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচে কাজ আরও করতে পারি। ২০১৭ সালে গঠন করা এই সেক্রেটারিয়েটে স্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যৌথভাবে কাজ করছেন। তিন বছর পরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এর নেতৃত্ব দেবে। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে স্টিয়ারিং কমিটি, কারিগরি কমিটি ও সেক্রেটারিয়েট- এই তিন কমিটি রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে নিয়ে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ কাজ করতে পারে। এটা একা করার বিষয় নয়। এই সেক্রেটারিয়েট রোগের নজরদারি ও কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব হলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখানে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েটে সবাই মিলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারি। মহামারির আগে ও পরে সব পরিস্থিতির জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রোগ আছে মানুষ থেকে প্রাণীর দেহে যায়। আবার প্রাণী থেকেও মানুষের দেহে আসে। বন্যপ্রাণী থেকেও ছড়াতে পারে। সব বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে সবাই মিলে কাজ করার প্ল্যাটফর্ম আরও শক্তিশালী হতে হবে।


ডা. এবিএম খালেদুজ্জামান

করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিযুক্ত খাদ্য মাংস ও ডিম উৎপাদন নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আর নিরাপদ পুষ্টির জন্য দেশে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে নিবন্ধন করা প্রতিষ্ঠানগুলো বিধিমালা অনুসরণ করেই এখন উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বায়োসিকিউরিটি তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কাজ করছে।




মোস্তাক হাসান মো. ইফতেখার

নিরাপদ খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ আছে। তবে এখন খাদ্য নিরাপদ করতে যথেষ্ট আইন আছে। তা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে খাদ্য নিরাপদ হবে না। এ প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন করতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাদ্য নিরাপদ করার জন্য মনিটরিং প্রক্রিয়া চালু করে এগিয়ে যেতে হবে। এটি না হলে দ্রুত এগোনো সম্ভব হবে না। নিরাপদের বড় হাতিয়ার অনিরাপদতা চিহ্নিত করা। এটি হলেই সমাধান দ্রুত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সব সংস্থাকে সক্রিয় হতে হবে।



মঞ্জুর মোর্শেদ আহমদ

দেহের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে খাদ্য নিরাপদ হতে হবে। রাসায়নিক, জীবাণু ও গঠনগত ঝুঁকি; এ তিন কারণে খাদ্য অনিরাপদ হতে পারে। জীবাণুঘটিত কারণে দূষণ হয়। এটা ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়লে মহামারি ধারণ করে। বিশ্বের ইতিহাসে যত মহামারি হয়েছে, এর প্রতিটি জীবাণুঘটিত। এ জীবাণুগুলো প্রাণী বা পশু-পাখি থেকে আসে। এটি নিরাপদ না হলে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার মাধ্যমে মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। এ জন্য প্রাণিজ খাদ্য নিরাপদ করা জরুরি। অনিরাপদ খাদ্য ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপ্তি অনেক বড়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি খাদ্য নিয়ে কাজ করলে তা আরও ছড়াবে। এ জন্য সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইনে এসব বিষয়ে সঠিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেসব পালনের বাধ্যবাধকতা আছে তা পালন করলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। খাদ্য নিরাপদ না হলে মহামারির হুমকি তৈরি হয়। মহামারি হলে তখন খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।


মো. রেজাউল করিম

নিরাপদ খাদ্য অনেক জটিল প্রক্রিয়া। এর সহজ সমাধান নেই। এর সঙ্গে সবাই জড়িত। সবার সমন্বয়ে আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। দেশ এখন উন্নত হচ্ছে; একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে খাবার অনিরাপদ হচ্ছে। এর অনেক প্রভাব পড়ছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন ও কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। এ আইন সবার সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে বিশেষ ধরনের জনবল দরকার। যে কেউ এ কাজ করতে পারবে না। এ জন্য কিছু কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপদ করতে সব পর্যায়ে ভালো চর্চা চালু করতে হবে। এ আইনে সতর্ক দৃষ্টি ও সচেতনতার কথা বলা আছে। সবাইকে আইন অনুসরণ করতে হবে। খাদ্য নিরাপদ করতে কোনো পর্যায়ে ছাড় দিলে হবে না।


ড. নাজমা শাহীন

যারা খাদ্য প্রস্তুত করেন তারা একটু মানবিক হোন। মানুষের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে খাদ্য আরও নিরাপদ হবে। নিরাপদ খাদ্য পাওয়া নিশ্চিত হবে। এখন খাদ্য পর্যাপ্ত, কিন্তু মানসম্মত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পর্যাপ্ত খাদ্য ও খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বড় বিষয় নিরাপদ খাদ্য। এসডিজির আটটি গোল অর্জন নির্ভর করে পুষ্টির ওপর। পুষ্টি নিশ্চিত করতে খাদ্য নিরাপদ হতে হবে। সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রাণিখাদ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে; বায়োসিকিউরিটি। করোনা প্রাণী থেকে এলেও এর বাহক মানুষ। এখন মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয় পর্যায়েই এ উদ্যোগ থাকতে হবে।


ডা. রুকসানা পারভিন

করোনার প্রভাব কমে আসছে। এর পরেও যেসব খাদ্যে মানুষের ইমিউনিটি ভালো থাকবে সেসব খাবার গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এই সময়ে গ্রহণ করা খাবার নিরাপদ হতে হবে। যে অনিরাপদ খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে সেগুলো পরিহার করতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের জন্য টিকাদান কার্যক্রম শেষ করার পর মাস্ক খুলে চললেও খাদ্যের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মাস্ক ও গ্লাভ্‌স ব্যবহার করতে হবে। এটি করলে জীবাণুঘটিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমতে পারে, যাতে প্রাণিখাদ্যের মাধ্যমে রোগ ছড়াতে না পারে। এভাবে পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হলে ইমিউনিটি বাড়লে রোগ প্রতিরোধ হবে। এসব প্রচার করা হলে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। এ জন্য সবাই মিলে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।


ডা. গোলাম মহিউদ্দিন

ক্যান্সারের জন্য অনিরাপদ খাদ্য, তামাক, মদ ও পরিবেশ বেশি দায়ী। খাদ্য ও পানীয় অনেকটা অনিরাপদ। বিশেষ করে কোমল পানীয়, চিপস ও পিজায় ট্রান্সফ্যাট বেশি। এসবের কারণে ক্যান্সার হচ্ছে। সম্প্রতি উদ্বেগের বিষয় ব্রেস্ট ক্যান্সার। এখন ৩০ বছরের নিচে অনেক রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ২০ বছরের নিচে ক্লোন ক্যান্সার পাওয়া যাচ্ছে। এসব খাদ্য নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছে কিনা তা দেখা উচিত। এ ক্ষেত্রে এসব খাবার নিয়ন্ত্রণে কর আরোপসহ নানাভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে, যাতে এতে নিরুৎসাহিত হয়। এ ছাড়া আঁশ জাতীয় খাবার যাতে বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করতে হবে।

নিয়াজউদ্দিন আহমেদ

মাছে-ভাতে বাঙালি। এখন মাছের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন প্রায় নিশ্চিত হচ্ছে। তবে এই মাছ উৎপাদনে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ মাছ উৎপাদন হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশে রপ্তানিতে শতভাগ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হয়। দেশের জনগণকে নিরাপদ খাদ্য খাওয়ানোও সবার দায়িত্ব। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আইন ও বিধি সঠিকভাবে থাকতে হবে। জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং মনিটরিং পদ্ধতি যথাযথ হতে হবে। এগুলো সঠিকভাবে হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে। এতদিন আমদানি পর্যায়ে আইন যথার্থ ছিল না। এখন আইন ও পরীক্ষা ব্যবস্থা মানসম্মত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত মৎস্যসম্পদ নিরাপদ করতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর চেষ্টা করছে।


মো. রিয়াজুল হক

বিএসটিআইর কাজ সীমিত। যেসব পণ্যে মাননিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক, শুধু ওই পণ্যের মান নিশ্চিত করছে এ সংস্থা। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হয়। বিএসটিআই বাধ্যতামূলক ১৮৪টি পণ্যের মধ্যে ৭৬টি খাদ্যপণ্যের মান তদারকি করছে। একটি কারখানায় তিন মাসে চারবার অভিযান চালিয়ে সিলগালা করার পরও গোপনে অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন করছে। তবে অনেক কোম্পানি এখন মানসম্মত পণ্য তৈরি করছে। বিভিন্ন কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন ও বাজার থেকে পণ্য নিয়ে পরীক্ষার প্রতিবেদন এখন অনেক ভালো আসছে। আগে ফরমালিনের ব্যবহার অনেক বেড়েছিল। এখন তাও কমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফল পরীক্ষা করে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। এসব বন্ধে সবার সম্মিলিত চেষ্টা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।


আতাউর রহমান

খাদ্য নিরাপদ করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোর দিলে হবে না। খাদ্যপণ্য নিয়ে চমকপ্রদ ভুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধে নীতিমালা হওয়া দরকার। সচেতনতা বাড়াতে এবং সতর্ক করতে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করা প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রচারাভিযান চালানো হলে দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্রুত পরিবর্তন আসবে। এনার্জি ড্রিংক নামে যে পানীয় বিক্রি হচ্ছে, বাস্তবে তা এনার্জি ড্রিংক নয়। এসব নিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য বিক্রিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ জন্য বিজ্ঞাপন নীতিমালা সংশোধন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। জনস্বার্থের দিক বিবেচনায় কিছু বিজ্ঞাপন বন্ধ করা জরুরি। নিরাপদ খাদ্যের উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ বা কর সুবিধা দেওয়া হলে তারা আরও আগ্রহী হয়ে উঠবেন। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও স্কুল ক্যাম্পেইন করে সচেতন করা যেতে পারে।


আশিস সৈকত

করোনা পরিস্থিতি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে, নিরাপদ খাদ্যের জন্য সজাগ দৃষ্টি ও সতর্ক তদারকি থাকতে হবে। গণমাধ্যম সজাগ দৃষ্টির ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। সতর্কতা নিশ্চিত করতে সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে। করোনা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। সে জায়গায় বড় শিক্ষা খাবার নিরাপদ হতে হবে। এ শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সবাইকে মানসম্মত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে এগিয়ে আসতে হবে। এক সময় দেশ মঙ্গায় ছিল; খাবারের অভাব ছিল। বর্তমানে তা কেটে গেছে। এখন সবাই মানসম্মত খাদ্য পেতে চায়। এ জায়গায় সরকারের সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকি জোরদার করতে হবে।


জুলফিকার রাসেল

বিএসটিআই মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে। বড় বড় শপে কিছু অভিযান চললেও ছোট অনেক দোকান আছে, যেখানে হাজারো রকম অনিরাপদ খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বড় শপে কম কেনাকাটা করে। তারা ছোট দোকানে বেশি যায়। এ জন্য সব ক্ষেত্রে অনিরাপদ খাদ্য বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্যের জন্য অভিযান ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। আজ পণ্য কিনলে আগামীকাল উৎপাদনের তারিখ এমন পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এর সমাধান হওয়া উচিত।



সঞ্চালক
মুস্তাফিজ শফি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
দৈনিক সমকাল

সভাপতি
মো. আব্দুল কাইউম সরকার
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

প্রধান অতিথি
সাধন চন্দ্র মজুমদার
মন্ত্রী, খাদ্য মন্ত্রণালয়
বিশেষ অতিথি
ড. নাজমানারা খানুম
সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়

অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক

আলোচকবৃন্দ
ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা
অতিরিক্ত মহাপরিচালক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ডা. এবিএম খালেদুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত পরিচালক
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

মোস্তাক হাসান মো. ইফতেখার
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

মঞ্জুর মোর্শেদ আহমদ
সদস্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

মো. রেজাউল করিম
সদস্য, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

ড. নাজমা শাহীন
অধ্যাপক, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ডা. রুকসানা পারভিন
সহযোগী অধ্যাপক
শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ডা. গোলাম মহিউদ্দিন
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ

নিয়াজউদ্দিন আহমেদ
উপপরিচালক
মৎস্য অধিদপ্তর

মো. রিয়াজুল হক
উপপরিচালক
বিএসটিআই

আতাউর রহমান
সাধারণ সম্পাদক
বিসেইফ ফাউন্ডেশন

আশিস সৈকত
প্রধান বার্তা সম্পাদক
ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

জুলফিকার রাসেল
সম্পাদক
বাংলা ট্রিবিউন

অনুলিখন

মিরাজ শামস
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক সমকাল

বিষয় : নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা

মন্তব্য করুন