বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হয়ে উঠেছে। করোনাকালেও এ দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরকে এখনও বড় পরিসরে যুক্ত করা যায়নি। এ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে খরচ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এটিকে বিনিয়োগ হিসেবেই দেখতে হবে। বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ বাড়লে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। কমবে ক্ষয়ক্ষতি। যে কোনো দুর্যোগে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরও বিনিয়োগ করে থাকে। এ দেশেও এই সেক্টরের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিসহ নতুন নতুন দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
গত ১৯ মে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দৈনিক সমকাল কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা  ২০২১-২০২৫ :দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সুপার প্রকল্পের (স্ট্রেংদেনিং আরবান পাবলিক প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলেন্স) আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক সমকাল। সুপার প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপিয়ান কমিশন ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর ইউরোপিয়ান সিভিল প্রটেকশন এন্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (
ECHO)। সুপার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে একশনএইড বাংলাদেশ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), ইউনাইটেড পারপাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি
রানা প্লাজা ধসের পর অন্যান্য দেশ এ দেশের গার্মেন্টের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিজিএমইএ কারখানাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার জন্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। তাই বর্তমানে বিশ্বের সেরা ১০টি গ্রিন গার্মেন্টের মধ্যে প্রথম তিনটি বাংলাদেশের। রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের ৯৯.৬ শতাংশ পোশাক কারখানা দুর্যোগ ঝুঁকির বিষয়ে নিয়মনীতি বাস্তবায়ন করেছে। তারা বিনিয়োগ করেছে। ফলে এরপর গার্মেন্ট সেক্টরে আর বড় কোনো দুর্ঘটনা হয়নি। করোনাকালে গার্মেন্ট কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিনিয়োগ করেছে। তাই এখানে সংক্রমণের হার অনেক কম। বিনিয়োগের কারণে তারা এই কঠিন সময়েও ব্যবসা করতে পারছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিনিয়োগ করলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কম হবে। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন বানালে নিজেদেরই লাভ।
প্রধানমন্ত্রী মানুষকে পাকা বাড়ি দিচ্ছেন। এতে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমে আসবে। এ ছাড়া দুর্যোগ পূর্বাভাস, সচেতনতা তৈরি, দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার একটি তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলে বেসরকারি খাত সহায়তা করতে পারে। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগের বিষয়ে অনেক পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিজিএমইএসহ অনেকেই এগিয়ে আসছে। দুর্যোগ ঝুঁকিবীমা থাকলে মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। প্রাইভেট সেক্টর যদি তার কর্মক্ষেত্র কিংবা বাড়িঘর দুর্যোগসহনীয় করতে পারে, তাহলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ইটভাটার মালিকরা জমির উপরের মাটি না পুড়িয়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট তৈরি করে, তাহলে প্রকৃতি রক্ষা পাবে। ইটভাটাগুলো যদি গ্রিন হয়ে যায় তাহলে কার্বন ছড়াবে না, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বাড়বে না। জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলায় এটা বিশাল ভূমিকা রাখবে। এভাবে প্রতিটি সেক্টর যদি পরিবেশবান্ধব হয়, তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারব। বিশাল জনসংখ্যাকে দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আমাদের প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে। ডিজাস্টার ফান্ড থেকেও যে কোনো দুর্যোগে জরুরি সাড়া দেওয়া যাবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাঁধগুলো যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে ঘূর্ণিঝড় হলেও ক্ষতি কম হবে। দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়, আরও অনেক মন্ত্রণালয়ের কাজ আছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও আন্তঃমন্ত্রণালয়ে আজকের আলোচনার সুপারিশগুলো পাঠাতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা দেশটিকে দুর্যোগসহনীয় করতে পারব। দুর্যোগ হলেও আমাদের জানমালের ক্ষতি কমাতে পারব।
ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম এমপি
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিহীন পৃথিবী গড়তে হবে। প্রাইভেট সেক্টরকে বাদ রেখে দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারই ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সরকারকে সহায়তা করে, সরকার সেটি বিতরণ করে। এটি দীর্ঘস্থায়ী কোনো কার্যক্রম নয়। এখন করোনা চলছে, সামনে আরও নতুন নতুন দুর্যোগ আসবে। বজ্রপাতে অনেক লোক মারা যাচ্ছে। আমরা প্রকৃতির সঙ্গে বৈরী আচরণ করেছি, ফলে প্রকৃতি আমাদের সাজা দিচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্যোগের বিষয় যুক্ত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। জানমালের ক্ষতি কীভাবে কম হয় এবং প্রাইভেট সেক্টরকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে উপায় খুঁজতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেক্টরে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমরা যত বেশি শক্তিশালী হই না কেন, আমরা দুর্যোগের সঙ্গে পারছি না। তাহলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব? আগে টর্নেডোতে বহু মানুষ মারা যেত। এখন তা কমে আসছে। কারণ, এখন আগে থেকে দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আরও আপডেট করা দরকার।
মুস্তাফিজ শফি
চলমান করোনা-দুর্যোগ বা বৈশ্বিক মহামারি আজকের এই আলোচনাকে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। প্রাইভেট সেক্টরের অনেক উদ্যোক্তাকেও আমরা করোনায় হারিয়েছি। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রাইভেট সেক্টরকে যুক্ত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সবাই মিলেই কাজ করতে হবে। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব, এই চেতনা বুকে ধারণ করতে হবে। সমকাল সামাজিক সব উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে চায়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এ আলোচনায় যুক্ত হয়েছি। আমরা এই আলোচনা শুরু করলাম। আশা করছি, এটা এগিয়ে যাবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সব সেক্টর ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
সুরেশ বার্টলেট
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে রোল মডেল। সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অগ্রগতি হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এ ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণে আরও সফলতা আসবে বলে বিশ্বাস করি। আমি মনে করি, আজকের আলোচনার পর দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ বাড়বে। এ কার্যক্রম সফল হবে। এতে দুর্যোগ ঝুঁকি কমবে, কমে যাবে ক্ষয়ক্ষতি। সরকার ও প্রাইভেট সেক্টরের এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে সুপার প্রকল্পের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
মোঃ মোহসীন
১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে যেসব দেশ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ তাদের অন্যতম। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব সমাজের দ্রুত এগিয়ে আসার উপযোগী একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গঠনে বাংলাদেশের বিশেষ স্বার্থ নিহিত রয়েছে। অবশ্য সূচনা হিসেবে এ ধরনের একটি ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই রয়েছে। এ ব্যবস্থা হলো জাতিসংঘের বিপর্যয় ও ত্রাণ সমন্বয়কারীর অফিস স্থাপন। এ সংস্থাটি যাতে কার্যকরভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারে, সে জন্য সংস্থাটি শক্তিশালী করে তোলা একান্ত দরকার। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর এ ব্যাপারে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু তখনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার কথা বলে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে আজ দেশের মানুষ ২০৪১ সালের উন্নত দেশের জন্য বুক বেঁধে বসে আছে। দেশ উন্নত করতে হলে প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমাদের অনেক অর্জন আছে; কিন্তু আমাদের আত্মতৃপ্তি নেই। দুর্যোগের পর পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লেগেছে। কিন্তু বাংলাদেশ বছর বছর বড় বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। আজকের আলোচনা থেকে অনেক সুপারিশ উঠে এসেছে। পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নে সুপারিশগুলো বড় ভূমিকা রাখবে। আগামীতে প্রকল্প প্রণয়নের সময় ডিজাস্টার ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। এর ফলে দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস পাবে।
আ ম নাছির উদ্দিন
২০২১-২০২৫ সালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সেন্দাই কর্মকাঠামো ২০১৫-২০৩০ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী আদেশাবলি ২০১৯ ভিত্তি করে। প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের অংশ হিসেবে প্রাইভেট সেক্টর কীভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত হতে পারে, তা এই পরিকল্পনায় রয়েছে। এতে যে মৌলিক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে তা হলো- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্তকরণ, কাউকে পেছনে ফেলে নয়, প্রাপ্ত অর্থের সর্বোচ্চ উপযোগ সৃষ্টি, পরিবেশভিত্তিক সমাধান, কারও ক্ষতি করে নয়। প্রাইভেট সেক্টর ও সিভিল সোসাইটির অংশগ্রহণ এবং স্থায়িত্বশীল ও অনুকরণযোগ্য দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কাজ। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা অর্থসংস্থান, সমন্বয় এবং অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবছর এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। এর সঙ্গে একটি পরিবীক্ষণ কর্মকাঠামো যুক্ত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্তর্ভুক্তি কৌশলের অংশ হিসেবে জেন্ডার এবং ডিজঅ্যাবিলিটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চারটি অগ্রাধিকারের আওতায় এতে ৫০টি মোটা দাগের কাজ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কাজগুলো চাহিদা ও প্রেক্ষিত অনুযায়ী বিভাজিত এবং পুনর্বিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২১-২০২৫ সময়কালে জাতীয় উন্নয়ন বিনিয়োগের ৭৫ ভাগ আসবে প্রাইভেট সেক্টর থেকে।
২০২১ সালকে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুর বছর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। এটি অব্যাহত থাকবে।
ফারুক হাসান
১৯৮০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে পোশাকশিল্প শুরু হয়। এখন পোশাকশিল্পে ৪০ লাখ মানুষ কাজ করছেন। চলতি অর্থবছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে। ভবন নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা বাধ্যবাধকতা দিয়েছি। কেন্দ্রীয় তহবিল করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে করোনার মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করছি। মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কালবৈশাখীসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি। জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া ও ত্রাণ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি রয়েছে।
গত বছর করোনা শুরুর পর পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মে মাসের শুরুর দিকে ধাপে ধাপে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি কারখানায় কাজ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত নানা প্রস্তুতি ও কঠোর নিয়ম মেনেই কারখানা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে পোশাক খাতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেক কম। জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। সারা পৃথিবীর ১০টি গ্রিন কারখানার মধ্যে সেরা সাতটি বাংলাদেশের। আরও ৪৭৫টি গ্রিন কারখানা করার প্রস্তুতি চলছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা অনেক সিরিয়াস। আমাদের অনেক কিছু শিখতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো কাজে আমরা অংশ নেব। সরকারের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। সবার অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।
অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে অনেক বৈঠক করা হয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছি। অনেক কিছু স্পষ্ট হওয়ার পরও প্রাইভেট সেক্টরকে মনে করা হয় তারা সিএসআর কিংবা চ্যারিটি করবে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটি যে বিনিয়োগ, সেটি অনেকেই মানতে চান না। সাইক্লোন কিংবা ঘূর্ণিঝড় হলে ব্যবসায়ীদেরই বেশি ক্ষতি হয়। এ খাতে তারা বিনিয়োগ না করলে তাদেরই বেশি ক্ষতি হবে। ২০১১ সালে জাপানে সংঘটিত ভূমিকম্প ও সুনামি দুর্যোগের চার বছরের মাথায় তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ব্যক্তি খাত বড় বড় বিনিয়োগ করেছে। একেকটা শহর পরিবর্তন হয়ে গেছে। থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ফিলিপাইনে ব্যক্তি কিংবা প্রাইভেট খাত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনিয়োগ করছে। এ খাতে বিনিয়োগ কেন দরকার, প্রাইভেট সেক্টরকে তা বোঝাতে হবে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ এখানে অনেক বেশি দরকার। অনেক আলোচনা হয়, কিন্তু মাঝখানে মনে হচ্ছে আলোচনাটি থেমে গেছে। আলোচনাটি শুরু করা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য সুপার কনসোর্টিয়ামকে ধন্যবাদ। ভারতেও বীমার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সরকারের পরিকল্পনা, বিশেষ করে স্থায়ী আদেশে সমন্বয় করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ যেন বেশি হয়।
ফারাহ কবির
২০১৫ সালে যখন সেন্দাই কর্মকাঠামো প্রণয়ন করা হয়, তখন কেউ চলমান প্যানডেমিকের কথা চিন্তাও করেনি। এখন আমাদের সকলের আলোচনায় বিষয়টি আছে, ভবিষ্যতেও আসবে। তাই আগামীতে এ ধরনের বিষয় নিয়ে অনুমিত পরিকল্পনা এবং কাজ থাকতে হবে। কারণ, আমরা কেউই জানি না করোনার এই প্রভাব কত দিন থাকবে। আমাদের মধ্যে একজনও যদি সংক্রমিত থাকে, তবে আমরা কেউই নিরাপদ নই। উৎপাদক এবং ভোক্তা সকলেই নিরাপদ না হলে ব্যবসা হবে না।
দুর্যোগে খাদ্য নিরাপত্তাসহ সবকিছুতেই আঘাত আসে। তাই সবাইকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা এবং কাজ করতে হবে। সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ দেখতে চাই। অবকাঠামোগত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সেন্দাইয়ের শিখন কাজে লাগাতে হবে। বৈশ্বিক যতগুলো বিষয় আছে, সেগুলো নিয়ে নীতিনির্ধারকরা সংশ্নিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা করবেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন
প্রাইভেট সেক্টরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের মূল বিষয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগকে আমরা খরচ হিসেবে দেখি। কিন্তু এটিকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ বাড়ানো খুবই জরুরি। প্রশিক্ষণ, সচেতনতা তৈরি, দুর্যোগসহনীয় ভবন তৈরি, দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তাসহ নানা কাজে প্রাইভেট সেক্টর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে দুর্যোগপ্রবণ এ দেশ আরও দুর্যোগসহনীয় হয়ে উঠবে। বিনিয়োগ করার আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের ঝুঁকি চিহ্নিত করতে হবে। সে অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে হবে।
রিজওয়ান রাহমান
শুধু টাকা দিয়েই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। রানা প্লাজা ধসের সময় এটা প্রমাণ হয়েছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর এ বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি রানা প্লাজা ধসের সময় মানুষের চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে বড় ভূমিকা রেখেছেন। সে সময় আমি ওনাকে আর্থিক সাহায্য দিতে চাইলেও তিনি তা নেননি; বরং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের অনেক কিছু করার আছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় গ্রাম থেকে নগরে সিএমএসএমই খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রিন ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণত সচেতনতার অভাবেই মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঘটনা ঘটে থাকে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীর নাব্য বৃদ্ধিতে ড্রেজিং পরিচালনার জন্য অনেক প্রকল্প থাকলেও এসব কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিষয়ভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ থাকাও প্রয়োজন। করোনা মহামারি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নাকি মানবসৃষ্ট, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে করোনা মোকাবিলায় আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এডিপিতে দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রতিবছরই বিশেষ বরাদ্দ থাকে। তবে তা সময়মতো ব্যয় করা হয় না। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে এবং এ বিষয়ে আমাদের বেশ কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে, যা যথাশিগগির প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।
ড. এম এহসানুর রহমান
সামনে দুর্যোগের মৌসুম আসছে। দেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে ব্যক্তি খাত সবার আগে এগিয়ে আসে। এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এটিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কথা বলা হচ্ছে। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এটি করতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রসার হচ্ছে, করোনাকালেও ধাক্কা মোকাবিলা করে আমরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছি। সম্প্রতি সিএসআর নিয়ে আমরা গবেষণা করেছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগের বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা নেই। অথচ সব সেক্টরেই বেসরকারি খাতের বড় ভূমিকা আছে। যেমন কৃষি খাতের প্রযুক্তি উদ্ভাবন। দুর্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে আঘাত বেশি আসে। সে কারণে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ে গুরুত্ব দিতে চাই। স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার উদাহরণ আছে। সেটিকে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে যাতে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
মুকিত বিল্লাহ
সুপার প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাইভেট সেক্টরের অংশগ্রহণ বাড়ানো। প্রাইভেট সেক্টরের অনেক সুযোগ আছে কাজ করার। উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ আছে, এসব জায়গা থেকে প্রাইভেট সেক্টর অনেক কিছু শিখতে পারে। একটা কিছু হয়ে যাওয়ার পর আমাদের দেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বড় দুর্যোগ সরকারের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে নেটওয়ার্ক বাড়ানো যায়। সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রভাবকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এতে আমাদের উন্নয়নে আরও গতি আসবে।
কাজী সাহিদুর রহমান
২০১৫-১৬ সালে আমরা যে ক'টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, দলিল ও চুক্তি পেয়েছি, যেমন- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক, ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ান সামিট, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন, এসডিজি- এর প্রায় সবগুলোতে New Ways of Working-এর কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু সম্পর্কিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ব্যবস্থাপনা ও অভিযোজনের মাধ্যমে জনগণের জীবন রক্ষা করে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাফল্যের মূল কৌশল হলো দুর্যোগের স্থায়ী আদেশের মাধ্যমে জনগণকে সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করা। এ ক্ষেত্রে সব সাফল্য ছিল গ্রামীণ মানসিকতার ওপর ভিত্তি করে, যেমন- স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দরিদ্র লোকদের নিযুক্ত করা। বাংলাদেশের জন্য New Ways of Working হলো সংস্থাগুলো কীভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে সংযুক্ত করবে। বাংলাদেশের বাস্তবতার ভিত্তিতে নতুন কৌশল হলো শহরাঞ্চলে বেসরকারি খাত জনগণকে সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বড় ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য প্রাইভেট সেক্টরে যেসব ফোরাম আছে তাদের মধ্যে টেকনিক্যাল কোলাবরেশন প্রয়োজন হবে এবং বেসরকারি খাত দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত কাজের অংশ হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারব, যেভাবে আমরা আগে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে পেরেছিলাম। এ জন্য আমাদের স্বাভাবিক ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটির বাইরে গিয়ে বিজনেস কন্টিনিউটির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর অফিস স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমন্বিত টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য প্রস্তুত আছে, যা বাংলাদেশকে সেন্দাই কাঠামোর লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
নাউকি মাতসুমুরা
জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ একটি ভূমিকম্প হয়। এরপর সুনামি হয়। এতে ২০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এই দুর্যোগে ১৫ লাখ কোটি টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। সাত বছর লেগেছে ধ্বংসস্তূপ সরাতে। তা সরাতে এক লাখ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। দুর্যোগ থেকে উঠতে গেলে অনেক সময় লাগে। জাপানে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে ক্ষতি কমানো হয়। জাপানে এখন দুর্যোগ হওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ জন্য তারা আগে থেকে কাজ করেছে। জাইকা থেকে আমরা অনেক কাজ করছি। বিশেষ করে ভবন নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু প্রাইভেট সেক্টর যদি ঠিক না থাকে, দেশ এগোবে না।
দোলন যোসেফ গমেজ
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকার কিংবা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করছি। প্রাইভেট সেক্টরের ব্যাপ্তি অনেক বড় এবং তাদের সক্ষমতাও বেশি। প্রাইভেট সেক্টরের সামনে দুর্যোগ ঝুঁকির বিষয়গুলো আরও পরিস্কার করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে। প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ যেমন অনেক বেশি, তেমনি ঝুঁকির পরিমাণও অত্যধিক। সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা হয়, তাতে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে গাইডলাইন থাকলে সুবিধা হয়। দায়বদ্ধতার বিষয়ে প্রাইভেট সেক্টর অনেক এগিয়ে এসেছে। এখন দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও এগিয়ে আসা উচিত।
মাসুদ রানা
ভূমিকম্পের বিষয়ে প্রয়াত জামিলুর রেজা স্যার কিছু সুপারিশ ও পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। সবাই মিলে আসলে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে। দেড় বছর ধরে করোনার মহামারি মোকাবিলা করছি। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন, কিন্তু নেপাল কিংবা গুজরাটের মতো একটি ভূমিকম্প হলে আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু? বাংলাদেশের অধিকাংশ অবকাঠামো প্রাইভেট সেক্টরের। কিন্তু আমরা বিল্ডিং কোড মেনে ভবন বানিয়েছি কিনা? ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি আঘাত পাবেন ব্যবসায়ীরা। আমরা সবাই মিলে যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাহলে করোনার মতো অন্যান্য দুর্যোগও মোকাবিলা করতে পারব।

প্রধান অতিথি

ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি
প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

বিশেষ অতিথি

ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম এমপি
সভাপতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

সঞ্চালক

মুস্তাফিজ শফি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সমকাল

স্বাগত বক্তব্য

সুরেশ বার্টলেট
ন্যাশনাল ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ

সভাপতি

মোঃ মোহসীন
সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

মূল প্রবন্ধ

আ ম নাছির উদ্দিন
কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার, সুপার প্রজেক্ট
একশনএইড বাংলাদেশ

আলোচকবৃন্দ

ফারুক হাসান
সভাপতি, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)

অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন
পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ (আইডিএমভিএস), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফারাহ কবির
কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলাদেশ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন
মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও
সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর

রিজওয়ান রাহমান
সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)

ড. এম এহসানুর রহমান
নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন

মুকিত বিল্লাহ
প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইউরোপিয়ান কমিশন ডিরেক্টরেট জেনারেল ফর ইউরোপিয়ান সিভিল প্রটেকশন এন্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (ঊঈঐঙ)

কাজী সাহিদুর রহমান
হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট
জাতিসংঘ বাংলাদেশ

নাউকি মাতসুমুরা
কান্ট্রি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর
(ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন)
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)

দোলন যোসেফ গমেজ
হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ

মাসুদ রানা
হেড, ডিআরএম অ্যান্ড ইআর ইউনিট
ইউনাইটেড পারপাস

উপস্থিত ছিলেন

মোঃ আইনুল কবীর
অতিরিক্ত সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

মঞ্জু মারীয়া পালমা
ডেপুটি ডিরেক্টর, আরবান প্রোগ্রাম অপারেশন্স, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ

মুসফেরা জাহান
প্রজেক্ট ম্যানেজার, সুপার প্রজেক্ট ইউনাইটেড পারপাস

খন্দকার আনোয়ার কামাল
যুগ্ম নির্বাহী সচিব, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)

মোঃ ফরহাদ হোসেন
প্রজেক্ট ম্যানেজার, সুপার প্রজেক্ট
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ

অনুলিখন

জাহিদুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

বিষয় : প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ বাড়লে দুর্যোগের ঝুঁকি কমবে

মন্তব্য করুন