ঢাকা শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কী করবেন

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কী করবেন

প্রতিকী ছবি

ডা. মো. নূর আলম

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৪৩ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১২:৩৩

অস্টিওপোরোসিস হলো ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত একটি রোগ, যেখানে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  

বয়স্ক পুরুষ ও নারীদের হাড় ভাঙার সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটি। এ রোগে হাড় এতটাই দুর্বল হয়ে যেতে পারে যে সামান্য জোর দিলে বা এমনিই ভেঙে যায়। প্রাপ্তবয়স্কদের হাড়ের ঘনত্ব ২ দশমিক ৫ মান বিচ্যুতির নিচে হলে অস্টিওপোরোসিস রোগ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। 

অস্টিওপোরোসিস উপসর্গ কী কী?
অস্টিওপোরোসিসকে ‘সাইলেন্ট’ রোগ বলে। এই রোগের ফলে ধীরে ধীরে শরীর ভাঙতে শুরু করে, যা টের পাওয়া যায় না; যতক্ষণ না ফ্র্যাকচারের পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায়। ফ্র্যাকচার মূলত হাতের কবজি, শিরদাঁড়া ও হাঁটুতে হয়। এই অসুখের উপসর্গের মধ্যে জরুরি হলো, হঠাৎ দৈহিক উচ্চতা কমতে থাকা। কোমরে বা শরীরের কোনো অংশে সর্বক্ষণ যন্ত্রণা। 

অস্টিওপোরোসিস হওয়ার কারণ কী?
অস্টিওপোরোসিস মূলত হাড়ের ঘনত্ব কম হলে হয়। হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে মূলত ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘনত্ব কমে। ৪০ বছর বয়সের আগে হাড়ের বৃদ্ধি বেশি হয়, ক্ষয় কম হয়। এর পর থেকে হাড়ের ক্ষয় বেশি হয়, বৃদ্ধি কম হয়।
হাড়ের ঘনত্ব কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে, যেমন– লিঙ্গ, পুষ্টি, বয়স ও ডায়াবেটিস বা হাইপোথাইরয়েডের মতো রোগ।

অস্টিওপোরোসিস হলে কী কী হতে পারে?
পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, যাদের প্রতিদিনের খাবারে ক্যালসিয়ামের অভাব, শরীরচর্চার বিশেষ সুযোগ নেই ও মেনোপজ-পরবর্তী সময়ে নারীদের বেশি হয়। পুরুষদের মধ্যে যাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম, তাদের জন্য এ অসুখের ভয় থেকেই যায়। অনেক সময় মদ্যপান, ধূমপান,‌ শরীরে একাধিক ফ্র্যাকচার থাকার ফলেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে। 

অস্টিওপোরোসিস রোধের উপায় কী?
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা প্রয়োজন। নিয়মিত পরিমাণমতো ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। কারণ, হাড়ের প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া দরকার। পানি হাড় থেকে অপ্রয়োজনীয় টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। অন্তত এক ঘণ্টা করে প্রতিদিন শরীরে রোদ লাগানো প্রয়োজন, যাতে হাড় মজবুত হয়। জীবনধারা পরিবর্তন, যেমন– ধূমপান বন্ধ করা, মদ্যপান না করা, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজনে ঝুঁকি চিহ্নিত করে চিকিৎসা করানোই অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের উপায়। 

লেখক : অর্থোপেডিক ট্রমা ও স্পাইন সার্জন ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোর (পঙ্গু হাসপাতাল) এবং কনসালট্যান্ট আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, মিরপুর, ঢাকা।

আরও পড়ুন

×