ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শিশুর চোখের সমস্যা

শিশুর চোখের সমস্যা

প্রতিকী ছবি

ডা. আহসান কবির

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৪৭ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:০৯

অনেকেই বুঝতে পারেন না, শিশুরা কম দেখতে পারে বা তাদের চোখের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু বড়দের মতো তাদের চোখেও রোগবালাই হতে পারে। কিছু লক্ষণ দেখে তাদের চোখের সমস্যা বুঝতে হয়। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা বা অভিভাবকের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। একটা শিশু জন্মগ্রহণের পর কিছুই দেখতে পারে না। ভালোভাবে দেখতে শুরু করে চার থেকে পাঁচ মাস বয়স হলে।

শিশুদের চোখের সমস্যা দু’ভাবে হতে পারে– 
১. গর্ভাবস্থায়;
২. জন্মের পর। 

গর্ভাবস্থায় প্রসূতির বিভিন্ন রোগ অথবা অনাগত সন্তান অপূর্ণাঙ্গ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করলে তার দেহের বিকাশের ঘাটতি হতে পারে। চোখেরও বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। নবজাতকের জন্মের পর কিছু বিষয় খেয়াল করতে হবে। যেমন– শিশুর চোখের পাপড়ি অসম্পূর্ণ (কলোবোমা) কিনা, পাপড়ি খুলে দেখা গেল চোখই নেই (এনঅফথালমিয়া), ছোট্ট চোখ (মাইক্রোঅফথালমিয়া) কিংবা অনেক বড় কালো গোল কর্নিয়া ইত্যাদি। বাচ্চার চোখ দিয়ে যদি পানি পড়ে, বাচ্চা যদি আলোর দিকে তাকাতে না পারে, তাহলে এগুলো গ্লুকোমার লক্ষণ।

ঘোলা কর্নিয়া বা চোখের মধ্যে সাদা কিছু, যা জন্মগত ছানি বা খারাপ রোগের লক্ষণ। কর্নিয়া ঘোলা হলে শিশুর দেখার সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া শিশুর ভবঘুরে চাহনি, হাঁটতে গেলে হোঁচট খাচ্ছে, এক জায়গায় বসে থাকছে মনে হলে বুঝতে হবে তার দেখার সমস্যা আছে।

শিশুর চোখ কাঁপছে কিংবা ডানে-বাঁয়ে দুলছে অথবা ঝাঁকুনি দিয়ে কাঁপছে– এমন হলে মোটেও ভালো নয়। শিশুর যে কোনো চোখ টেঁরা হলে বিভিন্ন রকম চিকিৎসা, চশমা বা অপারেশন লাগতে পারে। 

দূরে দেখতে হলে শিশু যদি চোখ ছোট বা পিটপিট করে, ঘাড় কাত করে দেখে, টেলিভিশনের খুব কাছে গিয়ে দেখে, ক্লাসের পেছনে বসলে ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা দেখতে না পায়, তাহলে বুঝতে হবে সে চোখে কম দেখছে। 

জন্মের পর নবজাতকের যে কোনো চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরা জন্মগত নেত্রপথ বন্ধের লক্ষণ। এমন হলে ভয়ের কিছু নেই, চিকিৎসা প্রয়োজন। 
জন্মের পর নবজাতকের চোখ হলুদ হতে পারে, যা স্বাভাবিক। বেশি হলুদ হলে বিশেষ অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্য লাগতে পারে। 
২৮ থেকে ৩৬ সপ্তাহে জন্মানো বাচ্চাদের চোখের স্নায়ু রোগের সমস্যা থাকতে পারে। এসব শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।
মনে রাখতে হবে, শিশুর চোখের যে কোনো সমস্যা জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে চিকিৎসা করতে হবে। অন্যথায় আজীবন সমস্যা থেকে যাবে। 

লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ  ও ফেকো সার্জন, যশোর চক্ষু ক্লিনিক অ্যান্ড ফেকো সেন্টার।

আরও পড়ুন

×