ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

অগ্ন্যাশয়ের সংক্রমণ

অগ্ন্যাশয়ের সংক্রমণ

.

ডা. আবুল কালাম আজাদ

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৩:০১ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১২:০৯

প্যানক্রিয়াটাইটিস হলো প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের সংক্রমণ। পৃথিবীতে যত মানুষের পেটে ব্যথা হয়, তার ৩ শতাংশই এ কারণে হয়ে থাকে। প্যানক্রিয়াস হলে তীব্র ও যন্ত্রণাময় ব্যথা হয়। ব্যথাটা প্রথমে পেটের ওপরের দিকে মাঝামাঝি থাকে। পরে এটি পেটের দুই পাশে কিংবা পুরো পেটেই ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি এটি বুকেও চলে যেতে পারে। ৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথাটা সরাসরি পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ব্যথার ধরন এতই তীব্রতর হয় যে রোগীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়; না হলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। 

সচরাচর অন্যান্য পেটব্যথার মতো প্যানক্রিয়াটাইটিস ব্যথা সহজেই নিরাময়যোগ্য নয়। খুব উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক এবং ঘুমের ওষুধ দিয়ে এ ব্যথাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। এ ব্যথার সঙ্গে রোগীর শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, হেঁচকি হওয়া– এসব উপসর্গও দেখা যায়। এ সময় রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার তীব্র জ্বর থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়। অনেক রোগীর এ সময়ে পেটে পানি জমতে পারে এবং পেটের ওপরের অংশ শক্ত হয়ে যায়। এ ছাড়া ঘন ঘন শ্বাস টানা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ কমে রোগীর শক-এ চলে যাওয়া, পায়ে লাল দানাদার ফুটকি ওঠাসহ নানা সমস্যা এ রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

প্যানক্রিয়াটাইটিস অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই হয়। এমনটি হওয়ার ৫০-৭০ শতাংশ কারণ হলো, প্যানক্রিয়াস এনজাইম নিঃসরণের পথে পাথর হওয়া। ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই রোগটি দেখা দেয় অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণে। প্যানক্রিয়াটাইটিস ক্যান্সার হলে ইআরসিপি পরীক্ষা করার পর, পেটের অন্য কোনো অপারেশনের পর, কিছু কিছু ওষুধ সেবনে (এজাথ্রিওপিন, থায়াজাইড), আঘাতের ইতিহাস থাকলে, ভাইরাসের ইনফেকশন হলে প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে। প্যানক্রিয়াটাইটিস হয়েছে কিনা, এটি নিশ্চিত করতে শুরুতেই রক্তের বা সিরামের অ্যামাইলেজ নামক এনজাইমের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা হয়। এ ছাড়া রোগের কারণ নির্ণয়ে আরও কিছু পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট ও বুকের এক্স-রে, পেটের আলট্রাসনোগ্রাম, পেটের সিটি স্ক্যানসহ আরও কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা।

প্যানক্রিয়াটাইটিস হলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। চিকিৎসা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগের কারণ খুঁজে বের করা হয়। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই প্যানক্রিয়াটাইটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে; তবে অনেক সময় তীব্র মাত্রার প্যানক্রিয়াটাইটিস হলে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে রোগীর বিকল হয়ে যাওয়া প্যানক্রিয়াস ফেলে দেওয়া হয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, বিএসএমএমইউ, শাহবাগ।

আরও পড়ুন

×