‘কোনো ধরনের গুজব নয়, নিজে টিকা নিন, অন্যকে টিকা নিতে উৎসাহ দিন’; এই আহ্বানে দেশে করোনাভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে আগ্রহ। শুরুর দিকে একটা ভয় কাজ করলেও এখন স্বাচ্ছন্দ্যে টিকা নিচ্ছেন অনেকেই। তবে পুরুষের চেয়ে নারীরা টিকা নিচ্ছেন অনেক কম। যা প্রায় অর্ধেক।

জাতীয়ভাবে টিকাদান শুরুর ১১ দিনের মাথায় বুধবার দেশজুড়ে টিকা নিয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৫৫ জন। আর এ পর্যন্ত অর্থাৎ ১১দিনে মোট টিকা নিয়েছেন ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৭১৯ জন। নারী পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৯ জন। অর্থাৎ মোট টিকা গ্রহীতার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে নারী।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ‘কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত দৈনিক তথ্য (সারাদেশ)’ শিরোনামে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে ঢাকা মহানগরসহ টিকা গ্রহণের বিভাগ এবং জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে টিকা নেওয়াদের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ২০৩ জন। আর নারী রয়েছেন ৮১ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ বুধবারও পুরুষের তুলনায় নারী টিকা গ্রহীতা ছিল প্রায় অর্ধেক কম।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরে করোনাভাইরাস টিকা নিয়েছেন ৩১ হাজার ৮৭০ জন। আর পুরো ঢাকা বিভাগে নিয়েছেন ৭০ হাজার ২৫ জন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে টিকা নিয়েছেন ১০ হাজার ৭৭৩ জন, চট্টগ্রামে নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৭৮৩ জন, রাজশাহীতে ২৭ হাজার ১০৮ জন, রংপুরে নিয়েছেন ১৯ হাজার ৭৫৯ জন, খুলনায় ২৮ হাজার ৪৩৬ জন, সিলেটে ১২ হাজার ৭২৫ জন এবং বরিশালে টিকা নিয়েছেন ১৩ হাজার ১৪৬ জন।

শুরুর পর থেকে মোট নয়দিনে দেশে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ জন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে নিয়েছেন চার লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৯ জন। এরমধ্যে আবার ঢাকা মহানগরে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪১৬ জন।

এছাড়া এই নয়দিনে ময়মনসিংহে টিকা নিয়েছেন মোট ৭১ হাজার ৩৭৫ জন, চট্টগ্রামে নিয়েছেন তিন লাখ ৬৪ হাজার ৭৪২ জন, রাজশাহীতে এক লাখ ৮০ হাজার ৭৯১ জন, রংপুরে এক লাখ ৪৭ হাজার ২০৪ জন, খুলনায় এক লাখ ৮১ হাজার ৬২১ জন, সিলেটে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৬১ জন এবং বরিশালে টিকা নিয়েছেন ৭৬ হাজার ৮০৫ জন।

গত ২৭ জানুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়। পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় জাতীয়ভাবে টিকাদান কার্যক্রম।

মন্তব্য করুন