হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক সংলাপে জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর দেশের এক শতাংশের বেশি মানুষ এরই মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। তারা জানিয়েছেন, করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশ তাদের এক শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

'করোনা সংক্রমণের গতিবিধি ও টিকা' শীর্ষক সংলাপে তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ১৫টির বেশি দেশ মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি টিকার আওতায় আনতে পেরেছে। দেশে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৩ জন, যা এক শতাংশেরও কিছুটা বেশি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ২৩ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় এসেছে। আবার বাংলাদেশের আগে টিকা কার্যক্রম শুরু করে জনসংখ্যা বেশি থাকায় ভারতও ওই টার্গেটে যেতে পারেনি। টিকা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষ এখন দলে দলে টিকা নিচ্ছে। টিকা নেওয়ার এই গতি ধরে রাখতে হবে।

ডা. আলমগীর বলেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ৫ শতাংশের নিচে আছে। এর মানে এই নয় যে, সংক্রমণ কমেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই সংক্রমণের হার কমার পর আবারও বেড়েছে। তাই ঢিলেমি দিলে চলবে না। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, টিকা মৃত্যু কমাবে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা একটি অন্যতম পন্থা; তবে একমাত্র পন্থা নয়।

সংগঠনের সভাপতি তৌফিক মারুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. সমীর কুমার সাহা, স্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, বিএইচআরএফ সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাব্বি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, সংক্রমণ কমে এলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটা বৈশ্বিক সমস্যা, আমাদের দেশে কমলেও অনেক দেশে এখনও সংক্রমণের হার বেশি। যেসব দেশে সংক্রমণ আছে তাদের অনেকে আমাদের দেশে আসবে। তারা যেন ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, সংক্রমণ কমলেও আমরা ঝুঁকিমুক্ত হইনি। জনসমাগম বন্ধ রাখতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এসব জনসমাগম বন্ধে চাপ সৃষ্টি, আইনের প্রয়োগ কিংবা অনুরোধ করতে হবে।

অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগেই আমাদের সিকোয়েন্সিংয়ের মেশিন ছিল। কিন্তু এই কাজে আমরা সফলতা দেখাতে পারিনি। কিন্তু করোনাকালে সবাই মিলে যখন কাজটি শুরু করি, তখন বড় একটি কাজ হলো। এই বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনার সংক্রমণ কমানো এবং টিকা কার্যক্রম সফল করতে সমাজপতি থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতাসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। নারীরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসেনি। বস্তির এবং নিম্ন আয়ের মানুষ এখনও টিকা নিচ্ছে না। এদের কাছে টিকা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করত হবে।