হলিউডের ব্যবসাসফল পাঁচ ছবি

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯   

সৌম্য প্রীতম

সাম্প্রতিক সময়ে অ্যানিমেশন ও সুপার হিরো সমৃদ্ধ ছবির চাহিদা বেড়েছে। গত বছরের মতো চলতি বছরেও এ দুই ঘরানার চলচ্চিত্রের জয়জয়কার ছিল। মূলত এ বছরটি যেন ছিল মার্ভেল ও ডিসি কমিকসের হলিউডি মাঠ দখলের লড়াই। চলতি বছর একাধিক ছবি মুক্তি দিয়েছে এই দুটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসার নিরিখেও দুটি প্রতিষ্ঠান বেশ সফল হয়েছে। আর এ দুই প্রতিষ্ঠানের লড়াই দেখে মনে হচ্ছে, কেউই 'বিনা যুদ্ধে' এক ইঞ্চি মাটি ছাড়তে রাজি নয়। তবে হলিউড বলতে তো শুধু ওয়াল্ট ডিজনি-ডিসি-মার্ভেলকে বোঝায় না। সুপার হিরো ছাড়াও এই রক্তমাংসের পৃথিবীর কিছু গল্পও রুপালি পর্দায় চিত্রায়িত হয়েছে। ব্যবসার নিরিখে এ বছর যেসব হলিউড ছবি রাজত্ব করেছে, তা নিয়ে এ আয়োজন-

অ্যাভেঞ্জার্স : এন্ডগেম

চলতি বছরের শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল, অ্যান্টনি রুশো ও জো রুশো পরিচালিত 'অ্যাভেঞ্জার্স : এন্ডগেম' বদলে দেবে হলিউডের সব হিসাব-নিকাশ। এ বছরের ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে ছবিটি মুক্তির মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আয় করে ২১৮ দশমিক ৯ কোটি মার্কিন ডলার। টাকার অঙ্কে তা ১৮ হাজার ৬০৬ কোটি! শুধু তাই নয়, ছবিটি এখন হলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবিতেও পরিণত হয়েছে। সবমিলিয়ে ছবিটি আয় করে ২ দশমিক ২১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিছুটা বেশি।

লায়ন কিং

এ ছবিটি মুক্তির পরই চমক দেখিয়েছে। যদিও বছরের শুরুর দিকে 'লায়ন কিং' সিনেমার এমন সফলতা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়াল্ট ডিজনি। তবে অবাক করে দিয়ে লায়ন কিং এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ব্যবসাসফল সিনেমা। ১৯ জুলাই ছবিটি মুক্তির পর মাত্র এক মাসেই আয় করে ১৩৩ দশমিক ৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত ছয় বছর ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখা ফ্রোজেন সিনেমাকে পিছু হটিয়ে দেয়।

স্পাইডারম্যান :ফার ফ্রম হোম

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সনির জন্য সোনার ডিম দেওয়া হাঁসে পরিণত হয়েছে স্পাইডার-ম্যান : ফার ফ্রম হোম। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে এটি। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের [এমসিইউ] ছবি স্পাইডার ম্যান : ফার ফ্রম হোম এখন পর্যন্ত আয় করেছে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে সনির হয়ে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ১০৮ বিলিয়ন ডলার ঘরে তুলেছিল জেমস বন্ড সিরিজের স্কাইফল। এমসিইউতে স্পাইডারম্যানকে প্রধান চরিত্র করে বানানো দ্বিতীয় সিনেমা ফার ফ্রম হোম।

টয় স্টোরি ফোর

২৪ বছর আগে তৈরি হয় প্রথম 'টয় স্টোরি'। ১৯৯৫ সালে এটি বিশ্বজুড়ে আয় করেছিল ৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার [৩ হাজার ৩৩৪ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা]। নয় বছর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত 'টয় স্টোরি থ্রি' প্রথম অ্যানিমেটেড ছবি হিসেবে বিশ্বব্যাপী টিকিট বিক্রিতে ১০০ কোটি ডলারের ব্যবসা করে। পাশাপাশি সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওস মোশন পিকচার্সের পরিবেশনায় গত ২১ জুন মুক্তি পায় 'টয় স্টোরি ফোর'। এবারও শেরিফ উডি, বাজ লাইট ইয়ার, বো পিপ আর তাদের প্লাস্টিকের পুতুল দলকে দেখা গেছে। জশ কুলি পরিচালিত সিনেমাটি রেকর্ড সংখ্যক দেড় কোটি ডলার [১২৬ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা] আয় করে। আর কোনো অ্যানিমেটেড ছবির এমন আয়ের নজির নেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে। সারাবিশ্ব থেকে ছবিটি সব মিলিয়ে আয় করেছে ৪৩৪ কোটি মিলিয়ন ডলার।

ক্যাপ্টেন মার্ভেল

নারী দিবসে নারীর ক্ষমতায়নকে একটু বিশেষ রূপ দিতেই বিশ্বজুড়ে থ্রিডি ফরম্যাটে মুক্তি দেওয়া হয় মার্ভেল কমিকসের প্রথম নারী সুপারহিরোইনের ছবি 'ক্যাপ্টেন মার্ভেল'। মুক্তির আগে কমিক ছবির ফ্যানদের কাছে বেশ দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছিলও ছবিটিকে। অনেকেই তাচ্ছিল্য ভরা সুরে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন, নারী সুপারহিরো'র সাফল্য নিয়ে। সব সমালোচনার জবাব বেশ কড়া ভাষাতেই দিয়েছেন 'ক্যাপ্টেন মার্ভেল'। নারীরাও বক্স অফিসে রাজত্ব করতে পারেন তার প্রমাণ দিয়ে দুয়োধ্বনিকে প্রশংসায় রূপান্তরিত করতে বাধ্য করলেন ক্যাপ্টেন মার্ভেলের চরিত্রে অভিনয় করা ব্রি লারসন। ১৫২ মিলিয়ন বাজেটে নির্মিত ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্যের পায়রা হয়ে উড়েছে। ছবিটি আয় করেছে ৪২৬ মিলিয়ন ডলার।

চলতি বছর এগুলোর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ছবি বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।

এ তালিকার উল্লেখযোগ্য সিনেমগুলো হলো- আলাদিন [৩৩৪ মিলিয়ন ডলার], জোকার [১৯২ মিলিয়ন ডলার], ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস :হবস এন্ড শ [১৬৫ মিলিয়ন ডলার], ফ্রোজেন টু [১১০ মিলিয়ন ডলার] ও নি ঝা [৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার]।