'২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাম কমবে পেঁয়াজের'

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে পেঁয়াজের দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি।

মঙ্গলবার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এ আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আবু রায়হান বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে। আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত যে, আজকের বৈঠকের পর দাম কমে আসবে।

এ সময় প্রায় একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীনও। তিনি বলেন, যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত ও আমদানির পর্যায়ে রয়েছে, তাতে সহসাই দাম কমে আসবে।

হঠাৎ করে কেজিতে ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে সরকারি বিভিন্ন দফতর, পেঁয়াজের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। মন্ত্রীর পক্ষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব।

বাণিজ্য সচিব বলেন, দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে দাম নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। শিগগিরই পেঁয়াজের দাম কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজারে মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

১৩ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজের ন্যূনতম রফতানি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এরপর থেকে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানির বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত শুক্রবারে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। এর সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। ফলে ভারতের বাজারের ওঠানামায় বাংলাদেশের বাজার প্রভাবিত হয়।

নিজের প্রথম কর্মদিবস এবং সব বিষয়ে পুরোপুরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ হয়নি জানিয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, এই মিটিং থেকে যা বুঝলাম তার সারাংশ হচ্ছে দেশের বাজারে গত কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের যে দাম বেড়েছে তা অযৌক্তিক। পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। এজন্য মন্ত্রণালয় কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে নিয়েছে। আরও কিছু কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে পাইকারি ও খুচরা বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সহজে আমদানির ব্যবস্থা করতে পেঁয়াজের এলসি মার্জিন ও সুদহার কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। বন্দর থেকে দ্রুত খালাস এবং গন্তব্যে যাতে দ্রুত পৌঁছায় সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীকে শিগগিরই চিঠি দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এনবিআরকেও সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে ট্রাক সেল শুরু করা হয়েছে। যতদিন প্রয়োজন এটা চলতে থাকবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পাইকারি বাজারের দামের তুলনায় খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি। এটা কমানোর জন্য বাজারে মনিটরিং বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভারতের বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দর ঠিক রাখতে নূ্যনতম রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দরে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, বর্তমানে আমদানির পাইপলাইনে এবং দেশের অভ্যন্তরে যে মজুত আছে তা সন্তোষজনক। কাজেই পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে এটাও মনে রাখতে বর্তমানে পেঁয়াজ চাষের মৌসুম, আগামী দেড় মাস পরে নতুন পেয়াজ বাজারে আসবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান আমদানি বাজারে ন্যূনতম রফতানি মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে এই সময়ে পেয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

বৈঠকে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জাহাঙ্গীর, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন, ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর, আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং রাজধানির বিভিন্ন কাঁচা বাজার সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।