সাভারের আশুলিয়ায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ( ৮৫০ কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত বেক্সিমকো গ্রুপের নতুন পিপিই শিল্পপার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করেছে। বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার এর উদ্বোধন করেন। প্রায় ২৫ একর এলাকাজুড়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ( পিপিই) তৈরির এ শিল্পপার্ক সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও স্থাপত্যের সংমিশ্রণে মাত্র ছয় মাসে সব অনুমতিসহ উৎপাদনক্ষম করে গড়ে তোলা হয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপ তাদের নতুন বেক্সিমকো স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীদের কাছে মাস্ক এবং প্রতিরক্ষামূলক গাউনসহ পিপিই সরবরাহের চুক্তি করেছে। এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, 'এ উদ্যোগ প্রমাণ করে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাকের বাইরেও উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ তৈরি করতে সক্ষম। বিপুল শ্রমশক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে উন্নত ও মানসম্পন্ন রপ্তানিযোগ্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরছে নতুন এ পদক্ষেপ।' বেক্সিমকোর এ প্লান্ট বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বেক্সিমকো গত বছর মহামারির শুরুর দিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে পিপিই উৎপাদন, প্রযুক্তি স্থাপন ও কৌশল আয়ত্তে এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ লাখ গাউন সরবরাহ করে।

বেক্সিমকোর সিইও এস নাভেদ হুসাইন উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, তাদের শিল্পপার্কে জীবাণুমুক্ত ডিজপজেবল আইসোলেশন ও সার্জিক্যাল গাউন, পুনঃব্যবহারযোগ্য আইসোলেশন গাউন, এন৯৫ ক্যাপ টাইপ ও ফোল্ডেবল টাইপ মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক, ডিজপজেবল স্ক্রাবস, উভেন ও কিটেন সু কভার ও হেড কভার, পুনঃব্যবহারযোগ্য পানিরোধী স্ক্রাবসসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ তৈরি হবে। বেক্সিমকো পিপিই পার্ক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই পণ্য সরবরাহ করবে। এর লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চল কেন্দ্রিক না হয়ে সব ধরনের পিপিই উৎপাদন ও রপ্তানি।

বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেকসিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া ইন্টারটেকের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সন্দ্বীপ দাস, উত্তর আমেরিকার গ্লোবাল সফটলাইন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রক করোনা, পিপিই কারিগরি প্রধান জ্যাশন অ্যালেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে জাননো হয়, বেক্সিমকো ও ইন্টারটেকের যৌথ উদ্যোগে পার্কের ভেতরে ১২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি সর্বাধুনিক 'পিপিই সেন্টার অব এপিলেন্স' ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি রয়েছে। পিপিই ল্যাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানদণ্ড অনুযায়ী পিপিই তৈরির সব ধরনের পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে।

ইন্টারটেকের সিইও আন্দ্রে লাক্রোইপ জানান, 'একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোম্পানি হিসেবে ইন্টারটেকের লক্ষ্য হলো জীবনমান, নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উন্নততর ও অধিক নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যেই আমরা বেক্সিমকোর সঙ্গে আমাদের চুক্তি সম্প্রসারিত করেছি। এর ফলে এ পিপিই উৎপাদন কেন্দ্রে সঠিক মান নিশ্চিত করে পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।'

মন্তব্য করুন