মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) নগদের ৫১ শতাংশ শেয়ার পাচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। বাকি শেয়ার থাকবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের। লাভ হলে যেমন ডাক বিভাগ পাবে, লোকসান হলেও তা বহন করতে হবে। বর্তমানে নগদের আয়ের ৫১ শতাংশ পেলেও ডাক বিভাগকে কোনো লোকসান বহন করতে হয় না।

আগামী ২৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানের দুই বছর পূর্তি সামনে রেখে মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক এ তথ্য জানান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নগদের পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেল আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলম, ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেন নুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।

তানভীর আহমেদ বলেন, এতদিন নগদের আয়ের ৫১ শতাংশ পেত ডাক বিভাগ। এখন ডাক বিভাগ শেয়ার ধারণ করবে। নতুন এ পদ্ধতির কারণে আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এমনকি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমতি নিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে দেরি হচ্ছে কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গত বছরের মার্চ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে চলছে নগদ। শর্ত মেনে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে লেনদেন বিবরণী পাঠানো হয়। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা বিএফআইইউতে রিপোর্ট করা হয়। কোনো শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে লাইসেন্স পেতে দেরি হচ্ছে, তা নয়।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নগদে বেসরকারি খাতের শেয়ারের বড় অংশের মালিক সিগমা গ্রুপ। এ ছাড়া কয়েকজন ব্যক্তি এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিদেশি বিনিয়োগও রয়েছে। এখানে ফেসবুক, গুগল বা অ্যামাজনের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে। আগামী জুলাই মাসে হয়তো এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।

নগদের 'ব'-তে বেকুব বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে রাহেল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কাউকে না কাউকে তো নতুনত্ব আনতে হবে। এটা একটা নতুনত্ব। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি ঠিক নয়। শিগগিরই 'ব-তে বেকুব'-এর সেকেন্ড সেশন আসছে বলে জানান তানভীর আহমেদ মিশুক। তিনি বলেন, এমএফএসের ৩৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার এখন নগদের। যেখানে ৯৯ শতাংশ মার্কেট ছিল একটি কোম্পানির। ফলে নগদ নিয়ে নানা অপপ্রচার হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংক নগদের শেয়ার কিনছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তানভীর আহমেদ বলেন, সোনালী ব্যাংক যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। ১০ শতাংশ শেয়ার পেতে যে টাকার প্রস্তাব দিয়েছে, তার চেয়ে নগদের দৈনিক বিজ্ঞাপন খরচ বেশি হয়। যে কারণে এ প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

তিনি জানান, যখন নগদের দৈনিক ৮০ কোটি লেনদেন ছিল, তখন নগদের মূল্যমান ছিল প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এখন লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা। ফলে মূল্যমানও এ হারে বাড়বে। এ ছাড়া গ্রাহক সংখ্যা গত নভেম্বরের দুই কোটি থেকে বেড়ে এখন তিন কোটি ৮০ লাখ হয়েছে। এ ছাড়া সক্রিয় এজেন্ট রয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার।

বিষয় : নগদ ডাক বিভাগ

মন্তব্য করুন