সোয়া তিন বছর পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আবারো ৬ হাজার পয়েন্ট ছুঁইছুঁই অবস্থানে গেছে। বৃহস্পতিবার সূচকটি ১০১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৯৮৫ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সূচক বৃদ্ধির হার ১.৭১ শতাংশ।

দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে শেয়ারদর বাড়তে থাকায় সূচকটি এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি ৫৯০৯ পয়েন্ট ছাড়িয়ে ছিল। তবে পরদিনই নানা ইস্যুতে দরপতনের কারণে আর এগুতে পারেনি।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারি সূচকটির ৬০০০ পয়েন্টের ওপর ছিল। অব্যাহত দরপতনে ওই মাইলফলক থেকে নিচে নামলে গত সোয়া তিন বছর এ মাইলফলকের নিচেই অবস্থান করছিল।

মাঝের দরপতনে সূচকটি গত বছরের ১৮ মার্চ ৩৬০৩ পয়েন্টে পর্যন্ত নেমেছিল। উপায়ন্তর না পেয়ে এর পরই আরো দরপতন ঠেকাতে তৎকালীন বিএসইসি সব শেয়ারের সর্বনিম্ন লেনদেন মূল্য (ফ্লোর প্রাইস) বেধে দিয়েছিল।

গত বছরের মে মাসে শিবলী রম্নবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন কমিশন গঠণের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নানা মুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে। এতে কাজও হচ্ছে। দর বাড়ছে অনেকে শেয়ারের। যার প্রতিফলন রয়েছে সূচকে। এতে লেনদেনেও বেশ এসেছে গতি।


বর্তমানে শেয়ারদর ও সূচক বৃদ্ধিতে বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোর গুঞ্জন বেশি প্রভাব রাখছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। গুঞ্জন আছে, ব্যাংকসহ তালিকাভুক্ত প্রায় সব কোম্পানির করহার ২ শতাংশ করে কমানো হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

তবে নানামুখী গুঞ্জনকে কাজে লাগিয়ে কারসাজি চক্রও ফায়দা লুটছে। বাজেটে যে সুবিধা মিলবে, তার তুলনায় কোনো কোনো শেয়ারের দরকে অনেক বেশি বাড়িয়ে ফেলছে। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় নয়।

সূচকে সেঞ্চুরি হলেও দরবৃদ্ধি পাওয়ার শেয়ারের তুলনায় দর হারানো শেয়ার সংখ্যার ব্যবধান বৃহস্পতিবার কম ছিল। ডিএসইতে ১৬৩ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৪৩টি শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হয়েছে। অপরিবর্তিত ৫৮টি শেয়ারের দর।

আজকের সূচকের বড় উত্থানের কারণ ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইএপ সূচকের ১০১ পয়েন্ট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের অবদানই ৬৫ পয়েন্টের বেশি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ খাতের তালিকাভুক্ত ৩১ শেয়ারের মধ্যে শেষ পর্যন্ত্ম ২৯টির দর বেড়েছে, কমেছে মাত্র একটির। গড়ে সব শেয়ারের বাজারদর বেড়েছে ৪.৫০ শতাংশ।

আজ ৯ শতাংশের ওপর দর বেড়ে কেনাবেচা হয়েছে ২২ কোম্পানির শেয়ার, যার ৮টি ছিল ব্যাংক খাতের, ৮টি বীমার। আবার দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির প্রথম ৬টিই ছিল বীমা খাতের।

যদিও আজ বীমা খাতের ২০ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৮টি দর হারিয়েছে। এবং দর হারানো শীর্ষ তিন কোম্পানির দুইটি ছিল বীমা খাতের। কোম্পানি দুইটি হলো ক্রীস্টাল ও কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স। উভয় শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ হারে দর হারিয়েছে।

সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতও ছিল একই ধারায়।

আজ ডিএসইতে দুপুর ২টা পর্যন্ত্ম স্বাভাবিক চার ঘণ্টার লেনদেন সময়ে দুই হাজার ২৪৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। পোস্ট ক্লোজিং সেশনে লেনদেন আরো বেড়ে দুই হাজার ২৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা হয়েছে। এর থেকে বেশি লেনদেন হয়েছিল গত ৫ জানুয়ারি। ওইদিন ঢাকার শেয়ারবাজার ২ হাজার ৫৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

একক খাত হিসেবে ব্যাংক খাতের ৩১ কোম্পানির সর্বোচ্চ ৬১৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোটের ২৬.৭১ শতাংশ। ৫৪৮ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের খাতটি ছিল বীমা। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে বস্ত্র খাতে।

একক কোম্পানি হিসেবে বেপিমকো লিমিটেডই ছিল শীর্ষে, আজ কেনাবেচা হয়েছে ৯৬ কোটি টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রাইম ব্যাংকের ৬৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ১৪০ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ১২৫টির, অপরিবর্তিত ৩২টির দর। লেনদেন হয়েছে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার।

মন্তব্য করুন