আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি নির্বিঘ্ন করতে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বুধবার অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ চুক্তি করার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য পেট্রোবাংলা চুক্তি করবে।

এলএনজি আমদানির জন্য নতুন করে জাপানের ইটোচু করপোরেশন, গানভোর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, দুবাইয়ের শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং ও যুক্তরাজ্যের টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে 'মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ এগ্রিমেন্ট' করবে পেট্রোবাংলা। এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে বাংলাদেশকে সরবরাহ করবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৭ সালে এলএনজি সরবরাহের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিল। ওই সময় বিভিন্ন দেশের অন্য ১৪টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি হয়। পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানি করে তা গ্যাসে রূপান্তরের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে।

কমিটির বৈঠকে টিসিবির জরুরি ভিত্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ব্যবস্থা আরও দুই বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৩ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, মসলা, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরাসরি কিনতে পারবে টিসিবি।

বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৪টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা ওয়াসার 'সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩) বাস্তবায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মট ম্যাকডোনাল্ড, ইউরো কনসাল্ট মট ম্যাকডোনাল্ড ও অ্যাকুয়া কনসাল্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের জয়েন্ট ভেঞ্চারকে ১৬৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় নিয়োগ। এ ছাড়া পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের জন্য ২৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় থ্রি সিপটি টেকনোলজি কেনা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ভারতের বাগাদিয়া ব্রাদার্স থেকে ১৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের ১০টি ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কেনাকাটায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।