নিয়ম ভেঙ্গে যারা একাধিক বিও অ্যাকাউন্টে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইপিও শেয়ার পেতে আবেদন করেছিলেন, জরিমানা হিসেবে তাদের আইপিওর ১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছিল। ওই জরিমানার অর্ধেক টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

জরিমানার শিকার বিনিয়োগকারীদের পক্ষে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএ জরিমানার অর্থ প্রথমবারের মত মওকূফের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করেছিল। এমন আরও কয়েকটি আবেদন পাওয়ার পর বুধবার অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় জরিমানার অর্ধেক অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সংস্থাই এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, ২৫ হাজার ৩৮৯ বিও হিসাবধারীর প্রত্যেকে একাধিক বিও হিসাব থেকে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার পেতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার আইপিও চাঁদা জমা দিয়েছিলেন।

নিয়মানুযায়ী, এ বিনিয়োগকারীদের কেউ সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও শেয়ার পাননি। উল্টো তাদের জমাকৃত অর্থের ১৫ শতাংশ জরিমানা হিসেবে কেটে নিয়েছিল বিএসইসি। যার পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ ২২ হাজার টাকা।

কমিশন জরিমানার হার শুধু সোনালী লাইফের জন্য ১৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ওই ২৫ হাজার ৩৮৯ বিও অ্যাকাউন্টধারী তাদের ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ফেরত পাবেন।

তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে আর জরিমানা কমানো হবে না।

আইপিও আবেদনের নিয়ম অনুযায়ী. বিনিয়োগকারীরা তাদের বিও হিসাব থেকে একটি আবেদন করতে পারেন। যৌথ বিও হিসাব থেকে আরো একটি আবেদন করার সুযোগ আছে। অর্থাৎ দুইজন ব্যক্তি নিজ ও যৌথ নামে সর্বোচ্চ তিনটি আইপিও আবেদন করতে পারবেন। এর বেশি আবেদন করলে আইপিওধারী ব্যক্তি শেয়ার পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন এবং জমা করা অর্থের ১৫ শতাংশ জরিমানা করার বিধান আছে। তবে বিনিয়োগকারী একটি বিও থেকে যত ইচ্ছা আইপিও লট শেয়ার পেতে আবেদন করতে পারেন।

শেয়ারবাজার সূত্রে জানা গেছে, কিছু বিনিয়োগকারী না জেনে আবার কেউ জেনেবুঝেই একাধিক বিও থেকে আইপিও আবেদন করেছিলেন। অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের আইপিও ব্যবহার করে আবেদন করে। ফলে নিয়ম ভেঙ্গে আইপিওর সংখ্যা বেড়েছে।

বিএসইসির অনুমোদন পেয়ে সোনালী লাইফ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৯০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৯ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের আবেদনের আহ্বান জানিয়েছিল। এক্ষেত্রে ১ জন বিনিয়োগকারী কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার শেয়ার পেতে আবেদন করে।

গত ৩০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা ৬৯ কোটি ২৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন করেছিল। এ জন্য ৬৯২ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন তারা। এর মধ্যে ২ লাখ ৭৩ হাজার বিনিয়োগকারী ৪৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার শেয়ারের জন্য ৪৪৩ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা দেন। প্রতি ১০ হাজার টাকার আইপিওর বিপরীতে ১৭টি করে শেয়ার পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী কোটায় ৪৯ হাজার ৯৯২ জন বিনিয়োগকারী ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৮৯ হাজারটি শেয়ারের জন্য জমা দিয়েছিলেন ৮৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এসব বিনিয়োগকারীরা প্রতি ১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনের বিপরীতে ২২টি করে শেয়ার পেয়েছেন।

এছাড়া প্রবাসী ১৮ হাজার ১২২ জন বিনিয়োগকারীরা ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৮ হাজারটি শেয়ারের জন্য মোট ৫৬ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার আবেদন করেছিলেন। এই বিনিয়োগকারীরা প্রতি ১০ হাজার টাকার আইপিও আবেদনের বিপরীতে ৩৩টি করে শেয়ার পেয়েছেন।