বাংলাদেশে পোশাক খাতের নিরাপত্তা ইস্যুতে আবারও কাজ শুরু করতে অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি বাংলাদেশের (অ্যাকর্ড) ঘোষণাকে বিভ্রান্তিকর মনে করছে বিজিএমইএ। সরকারের অনুমোদন নিয়ে বেসরকারি উদ্যোগে গঠিত আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিলের (আরএসসি) সঙ্গে নতুন অ্যাকর্ডের কোনো সম্পর্ক না থাকার কথা জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

রোববার নতুন অ্যাকর্ড ইস্যুতে বিজিএমইএ এক বিবৃতিতে এর অবস্থান জানিয়েছে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অ্যাকর্ড গঠনের ঘোষণা এবং বাংলাদেশে আবারও কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। এতে পোশাক শিল্পের অংশীজনের মধ্যে সম্পর্কেরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অ্যাকর্ডের বিজ্ঞপ্তিটি একটি স্বাধীন সংস্থাকে অবমাননা করার প্রয়াস।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের তত্ত্বাবধান ও অনুমোদন এবং সরকারের অনুমতি নিয়ে একটি স্বাধীন ও অলাভজনক সংস্থা হিসেবে পোশাক শিল্পের সংস্কার এবং নিরাপত্তা উন্নয়নে আরএসসি গঠিত হয়েছে। একটি অভিন্ন কোড অব কন্ডাক্টের অধীনে নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং কমপ্লায়েন্স প্রতিপালনে কাজ করে যাচ্ছে আরএসসি। সংস্থার সার্বিক কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। দুই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী আইএলও এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আরএসসির কার্যক্রমে সহযোগিতা দিচ্ছে। অর্থাৎ এ দেশের পোশাক খাতে আরএসসি ছাড়া অন্য কোনো সংস্থার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত কাজ করার অনুমোদন নেই। সরকারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত নতুন অ্যাকর্ড প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ কোনোভাবেই বাংলাদেশে কাজ করতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার অ্যাকর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকর্ড ফর হেলথ অ্যান্ড সেফটি ইন দ্য টেপটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি' নামে এ দেশে আবার কার্যক্রম শুরু করবে অ্যাকর্ড। আরএসসির সঙ্গে এবার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয় তদারক করা হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। পোশাক খাতের ব্র্যান্ড প্রতিনিধি এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সইয়ের কথা জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। আগের মতোই অ্যাকর্ড ফাউন্ডেশনের অধীনেই নতুন কার্যক্রম চলবে। অ্যাকর্ডের হেড কোয়ার্টার নেদারল্যান্ডস থেকে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়।