মার্চেন্টদের (যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য নিয়ে ক্রেতাদের সরবরাহ করেছেন) পাওনার তথ্য জানিয়েছে ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মার্চেন্টদের কাছে তাদের ২০৬ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। তবে কতজন মার্চেন্ট এই টাকা পাবেন, তা জানায়নি। গত ২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ এক চিঠিতে এ তথ্য জানায় ইভালি। 

পাশাপাশি ইভ্যালি তার গ্রাহকদের কাছে ৩১১ কোটি টাকা দেনা রয়েছে বলে জানিয়েছে। আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে ব্যবসায়িক স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ লাভের মাধ্যমে এ দেনা পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল।

ইভ্যালি জানিয়েছে, তারা মার্চেন্টদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করছে। ইভ্যালিতে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে মার্চেন্টরা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মুনাফা করেন। মার্চেন্টদের বকেয়া পরিশোধের সময়সীমার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি ইভ্যালি।

এ বিষয়ে রোববার বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ইভ্যালির জবাব পাওয়া গেছে। বিষয়টি দেখার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোম্পানিটির দায়, বিজনেস পলিসি বিশ্লেষণ করতে কমিটি অবিলম্বে সভায় বসবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইভ্যালির বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সব তথ্য পাওয়া গেছে। এখন এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গঠিত কমিটি সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। এ সপ্তাহে কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে সাক্ষাৎ বা আলোচনার আপাতত কিছু নেই। মন্ত্রণালয় একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছে, তিনি (রাসেল) আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে দুই লাখের বেশি ক্রেতা, কয়েক হাজার সরবরাহকারীর স্বার্থ রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ৮ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম নেওয়া প্রায় ৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। এর আগে গত ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কাছে আলাদা চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম টাকা নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না দেওয়া ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর পণ্য নেওয়ার পর টাকা না দেওয়ার অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনে করে, ইভ্যালি টাকা সরিয়ে নিতে পারে।