সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে পুঁজিবাজারে আরও শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রাথমিকভাবে আগামী তিন বছরে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করবেন কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা। এতে শেয়ারবাজারে ওয়ালটনের লেনদেনযোগ্য শেয়ার ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তিন বছর পর বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার করে আরও ৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা।

শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ নতুন শিল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গোলাম মুর্শেদ।

শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশের কম শেয়ার থাকায় নতুন করে শেয়ার ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে ওয়ালটনসহ তিনটি কোম্পানিকে রোববার চিঠি দিয়েছিল বিএসইসি। চিঠিতে আগামী এক বছরের মধ্যে কোম্পানিগুলোকে ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ১০ শতাংশে উন্নীত করার অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠি ইস্যুর পরপরই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তিন কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়।

এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিএসইসি কার্যালয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের সঙ্গে ওয়ালটনের এমডি বৈঠক করেন। বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে নতুন শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো। বৈঠকে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও ওয়ালটন এমডির মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এরপর বাজারে শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ালটন। এই মুহূর্তে বাজারে ওয়ালটনের শেয়ার রয়েছে শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, পুঁজিবাজারের নিয়ম-নীতি মেনেই ব্যবসাসহ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ওয়ালটন। তাই সাধারণ বিনিয়োগকারী ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে বিএসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করি। পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে ওয়ালটনের ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ৫ শতাংশ শেয়ারে উন্নীত করতে বিএসইসির কাছে ওয়ালটনের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের আবেদন ছিল। বিএসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিভাবক। পুঁজিবাজারের সামগ্রিক স্বার্থে তিনি ওয়ালটনের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের আবেদন বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, লক-ইন পিরিয়ডে কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির নিয়ম নেই। তবু বিএসইসির অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় শেয়ার বিক্রি করতে ওয়ালটনের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা একমত হয়েছেন। বিক্রি করা শেয়ার থেকে প্রাপ্ত অর্থ তারা নতুন শিল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ার সংখ্যা ৩০ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩। শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাছে ওয়ালটনের শেয়ারের চাহিদা তুঙ্গে। তালিকাভুক্তির সময় ওয়ালটনের বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সর্বশেষ কার্যদিবসে ওয়ালটনের বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা যা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্ব্বোচ। আর সামগ্রিকভাবে বাজার মূলধনে গ্রামীণফোনের পরই অবস্থান ওয়ালটনের। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি