'মাই নেম ইজ বন্ড'- এক মুহূর্ত থেমে আবার 'জেমস বন্ড'। জেমস বন্ডের সিনেমায় এই সংলাপ শোনেননি এমন মানুষ দুর্লভ। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়ে জেমস বন্ড পরিণত হয়েছে দারুণ এক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। বিশ্বের প্রায় সব অভিনেতার কাছে জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয় মানে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া। তাই তো বিশ্বের জনপ্রিয় সব অভিনেতা মুখিয়ে থাকেন, কখন এ চরিত্রে কাজের সুযোগ পাবেন। এ সবকিছুর শুরু করেছিলেন যিনি, তার নাম শন কনারি। বিশ্বের কোটি কোটি বন্ড-ভক্তের হৃদয়ে তিনিই সর্বসেরা বন্ড। তার আসন এখন পর্যন্ত কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেননি। জেমস বন্ডের চরিত্রে স্কটিশ অভিনেতা শন কনারিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল ১৯৬২ সালে। 'ডক্টর নো' সিনেমায়। এরপর সাতটি বন্ড চলচ্চিত্রে তিনি জিরো জিরো সেভেনের চরিত্রে অভিনয় করেন। তার পরে এ চরিত্রে অভিনয় করেন জর্জ লেজেনবি, রজার মুর, টিমোথি ডালটন, পিয়ার্স ব্রসনন ও ড্যানিয়েল ক্রেইগ। ইংরেজ লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের বিশ্ববিখ্যাত স্পাই থ্রিলার সিরিজের প্রধান চরিত্র জেমস বন্ডকে তৈরি করেন ১৯৫০ সালে।

ইয়ান ফ্লেমিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করতেন। তার সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেন কাল্পনিক চরিত্র জেমস বন্ডকে, যা শুধু সিরিজ হিসেবেই সফল হয়েছিল, তা নয়; পরবর্তীকালে বন্ডের সিনেমাগুলো দিয়ে শত শত কোটি ডলারের ব্যবসা হয়েছে। ১৯৬২ সালের পর থেকে একে একে জেমস বন্ড ছবির স্টাইলের পাশাপাশি জেমস বন্ড বদলেছে। কিন্তু অপরিবর্তিত ছিল চিত্রনাট্যের কারিশমা। জেমস বন্ড সিরিজের ২৪তম চলচ্চিত্র 'স্পেক্টর' মুক্তি পায় ২০১৫ সালে। 'স্পেক্টর' ছিল জেমস বন্ড হিসেবে ড্যানিয়েল ক্রেইগের ক্যরিয়ারে চতুর্থ ছবি। ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসের সব রেকর্ড ভেঙে যায়। সেই সময় ড্যানিয়েল ক্রেইগের বয়স ৪৭। তখনই গুঞ্জন উঠেছিল, 'স্পেক্টর' ছবির পর আর বন্ড হিসেবে পর্দায় ধরা দেবেন না তিনি! অবশ্য এর কয়েক দিন পরেই ক্রেইগ ঘোষণা করেন, আরও একবার তিনি 'বন্ড' হিসেবে পর্দায় ফিরছেন। বলাই বাহুল্য, সে ঘোষণা শুনে দারুণ খুশি বন্ডপ্রেমীরা। ড্যানিয়েল নিজেও খুশি হয়েছিলেন। ফলে 'নো টাইম টু ডাই' ছবিতে শেষবারের মতো জেমস বন্ড চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। ২০০৬ সালে 'ক্যাসিনো রয়েল' দিয়ে ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট 'জেমস বন্ড' হিসেবে যাত্রা শুরু করেন ক্রেইগ। এর পর 'কোয়ান্টাম অব সোলেস', 'স্কাইফল', 'স্পেক্টর' ছবিতে বন্ড হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এ ব্রিটিশ অভিনেতা। ক্যারি জোজি ফুকুনাগা পরিচালিত 'নো টাইম টু ডাই' সিনেমায় 'বন্ড ভিলেন' হিসেবে হাজির হয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা রামি মালেক।

বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত 'বন্ড ভিলেন'-এর মধ্যে তিনিই নাকি সবথেকে হিংস্র ও নিষ্ঠুর। আরও অভিনয় করেছেন লিয়া সিডাউ, বেন হুইশ, নাওমি হ্যারিস, জেফরি রাইট, ক্রিসটোফ ওয়াল্টজ, ররি কিনিয়ার, লাশানা লিঞ্চ, ডেভিড ড্যান্সেক প্রমুখ। জানা গেছে, বন্ড ছবির ইতিহাসে 'নো টাইম টু ডাই' একাধিক কারণে আলাদা। শুধু এজেন্ট-ভিলেন দ্বৈরথের বন্ধনীতে ছবিকে আটকে রাখা যাবে না। প্রচণ্ড অ্যাকশনের পাশাপাশি এ ছবিটি অনেক বেশি মানবিক। ছবিতে জেমস বন্ডের প্রতিপক্ষ দু'জন। জেমস বন্ডের প্রতিটি ছবির মতোই এ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে দারুণ আবহ সংগীত, যা করেছেন হান্স জামিয়ার। ছবির থিম সং 'নো টাইম টু ডাই' গেয়েছেন বিলি আইলিশ।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তিনবার মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করে দীর্ঘ ছয় বছর পর বহু বাধা পেরিয়ে আগামীকাল দেশের স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টারে মুক্তি পাচ্ছে 'নো টাইম টু ডাই'। যদিও এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ ১ অক্টোবর বিশ্বের ৫৪টি দেশে মুক্তি পায় ছবিটি। মুক্তির প্রথম দিনেই ৫৪টি দেশ থেকে আয় করেছে ১১৯ মিলিয়ন ডলার। ইউনিভার্সাল পিকচার্সের পক্ষ থেকে একাধিক গণমাধ্যমে জানানো হয়, করোনা শুরুর পর 'নো টাইম টু ডাই'-ই প্রথম ছবি, যা চীন ছাড়াই ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।


প্রযোজনা সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৯ অক্টোবর চীনে মুক্তি পাবে 'নো টাইম টু ডাই'। তখন ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে তৈরি ছবির মূলধন উঠে আসার আশা করছেন নির্মাতারা। চীন ছাড়াও চলতি মাসে ফ্রান্স, রাশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় মুক্তি পাবে ছবিটি। জানা গেছে, 'নো টাইম টু ডাই' মুক্তির প্রথম দিনে ২০১৫ সালের 'স্পেক্টর'-এর তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি ব্যবসা করলেও ২০১২ সালের 'স্কাইফল'-এর তুলনায় ২৬ শতাংশ কম ব্যবসা করেছে। বন্ড হিসেবে ড্যানিয়েল ক্রেইগের আগের চার সিনেমায় যুক্তরাজ্য থেকে আয় ছিল ৩০৫ মিলিয়ন পাউন্ড। বিশ্বজুড়ে আয় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের [৩.২ বিলিয়ন ইউএস ডলার] বেশি। এ-যাবৎকালে ক্রেইগের সর্বাধিক আয় করা বন্ড সিনেমা 'স্কাইফল', মুক্তি পায় ২০১২ সালে। সে সময় ছবিটি শুধু যুক্তরাজ্য থেকেই আয় করে ১০৩ মিলিয়ন পাউন্ড। বন্ড সিরিজে ক্রেইগের সর্বনিম্ন আয় করা সিনেমা 'কোয়ান্টাম অব সোলেস', যা মুক্তি পায় ২০০৮ সালে।