আগের বছরের একই মাসের তুলনায় সঞ্চয়পত্র থেকে কম ঋণ পেয়েছে সরকার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা এসেছে। আগের বছরের একই মাসে যেখানে নিট বিক্রি হয় তিন হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এর মানে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এবার কমেছে এক হাজার ৬০৪ কোটি টাকা বা ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।

ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে সুদ বেশি থাকায় সঞ্চয়কারীরা এখানে বেশি টাকা রাখছেন। সব মিলিয়ে গত জুলাই শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা পায় সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয় বাড়ছে।

ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্র থেকে অনেক বেশি সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। যে কারণে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে সুদহার এবং বিক্রির বিপরীতে কমিশন কমিয়েছে সরকার। আগের মাস আগস্টের এক নির্দেশনায় ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের সুদ মূল্যস্ম্ফীতির নিচে নির্ধারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগামীতে বিক্রি আরও কমতে পারে সংশ্নিষ্টদের ধারণা। এর আগে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করা হয়।