স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে বের হয়ে আসবে বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, এই স্বীকৃতি অর্জনের সঙ্গে এক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। একইসঙ্গে দেশের শ্রমশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (ডিসিসিআই) ডিসিসিআই যৌথভাবে ২৬ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। 

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডেটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা স্বীকৃতি। তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। উন্নত দেশ হয়ে অনুন্নত দেশের সুবিধা তো পাওয়া যাবে না। ফলে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সরকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমুলক বাণিজ্য চুক্তি করার চেষ্টা করছে।’

সরকার তৈরি পোশাকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অন্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘যাতে এক পণ্যের নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসা যায়, আমরা চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীদেরও এক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু নিজে এগিয়ে গেলে হবে না, দেশকেও এগিয়ে নিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে কম খরচে অনেক ভালো শ্রমশক্তি পাওয়া যায়, তাদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ১২ বছর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন এলডিসি গ্রুপ। 

একই সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা একসঙ্গে বাতিল না করে ধাপে ধাপে বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব আইন পালন থেকে অব্যাহতি পূর্ণ মেয়াদ ভোগ করার প্রস্তাব করেছে এই গ্রুপ। 

নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্ক উত্তরণের পর এলডিসিকে অতিরিক্ত তিন বছর বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে থাকে। এলডিসি গ্রুপের প্রস্তাব  কার্যকর হলে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করতে পারবে বাংলাদেশ। 

এলডিসির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্যোগ নিয়ে টিপু মুনশি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি আনতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য দেশের অর্জন ও সম্ভাবনা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। ব্যবসা ও উৎপাদন যাতে সহজ হয় সেজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষনের চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। রপ্তানিও বাড়বে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাইজেশনসহ বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে। করোনার মধ্যেও অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো হবে বলে ইতোমধ্যে আইএমএফসহ অন্যান্য সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অর্জন ও সম্ভাবনা বিষয়ে খুবই ইতিবাচক মতামত দিচ্ছে। এখন কাজ দেশকে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করা। যাতে বিশ্ব বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিতে এবং বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখায়।’

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘দেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বকে জানানো দরকার আছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘাটতি আছে। করোনা পরবর্তী সময়ে রপ্তানি আদেশ বেড়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট আগামী ২৬ অক্টোবর শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এতে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি কোম্পানি অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে স্থানীয় কোম্পানি ২৮১টি আর ২৭১টি বিদেশি কোম্পানি। এতে বিটুবি মিটিং হবে ৪৫০টিরও বেশি। বৈঠকগুলো হবে অনলাইনে। 

এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য, দেশের ব্যবসা বাণিজ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। ব্যবসা, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে যে উন্নতি হয়েছে তা অংশগ্রহণকারীদের জানানো।

ডিসিসিআইর সভাপতি রিজওয়ান রাহমান জানান, সম্মেলনে অবকাঠমো (ফিজিক্যাল, লজেস্টিক অ্যান্ড এনার্জি), তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফিনটেক, চামড়াজাতপণ্য, ওষুধ, অটোমোটিভ অ্যান্ড লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পল্গাস্টিক পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাট ও বস্ত্র, খুচরা ব্যবসা খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে। বিভিন্ন বিষয়ে ৬টি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হবে।