সেবা রপ্তানি ও ফ্রিল্যান্সারদের আয় দেশে আনা আরও সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সেবা রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। আবার অন্য দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট গেটওয়েতে অনানুষ্ঠানিক হিসাব (নোশনাল অ্যাকাউন্ট) খোলার সুযোগ পাবেন। সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম কিংবা বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাওয়া আয় প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’ হিসাবে জমা হবে। এরপর ব্যাংক সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে তা জমা করবে। গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি স্থানীয় ডিজিটাল ওয়ালেটেও অর্থ জমা করা যাবে। গ্রাহক চাইলে প্রযোজ্য অংশ ইআরকিউ হিসাবে জমা করতে পারবেন। সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর পরিশোধের বিধান মেনে চলতে হবে। আর সেবা রপ্তানির চার মাসের মধ্যে আয় দেশে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম বা পেমেন্ট গেটওয়েতে খোলা হিসাবের অর্থ আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে। বিশেষ করে সেবা প্রদানকারীর আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচালিত মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনা এবং বিদেশস্থ লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে তার নোশনাল হিসাব সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে। সেবা কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ ঘোষণাপত্র নিতে হবে। সেবার বিপরীতে পাওয়া আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কিংবা অনানুষ্ঠানিক হিসাবে জমার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেশে আনার বিষয়ে গ্রাহক থেকে অঙ্গীকার নামা নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ক্ষুদ্র পরিসরে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালে এডি ব্যাংকগুলোকে বিদেশস্থ ওপিজিএসপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়। এখন নীতিমালা আরও সহজ করা হলো।