দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহক প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগটি আর অনুসন্ধান করবে না। তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে অভিযোগটি পাঠানো হবে সরকারের অন্য সংস্থার কাছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন বক্তব্য দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।

এদিন অফিসের নির্ধারিত সময় শেষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কতিপয় অভিযোগ অনুসন্ধান নিয়ে চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ই-কমার্স, ইভ্যালির বিষয়টি দুদকের তফসিলভুক্ত নয়। যখন মানিলন্ডারিংয়ের কথা বলা হয়েছিল তখন অভিযোগটি দুদক অনুসন্ধানের জন্য নিয়েছিল। এখন ইভ্যালির মানিলন্ডারিং বিষয়টি অন্য সংস্থা দেখবে।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বছরের শেষ দিকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহক প্রতারণার একটি অভিযোগ পাঠায় দুদকে। ওই সময় কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগটির প্রাথমিক অনুসন্ধানও করা হয়।

এরপর গত জুলাইয়ের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণাকরে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের আরেকটি অভিযোগ দুদকে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুদকে পাঠানো আগের অভিযোগটির সঙ্গে এবারের অভিযোগটি সংযুক্ত করেছে দুদক। দ্বিতীয় পর্যায়ে অভিযোগটি পাওয়ার পর অনুসন্ধান জোরদার করা হয়। দুদক সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীত চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক শিহাব সালামের সমন্বয়ে টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছিল।

হেফাজতে ইসলাম নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের অনুসন্ধান খুব কঠিন কাজ। এ ধরনের অনুসন্ধান সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে করতে হয়। হেফাজতে ইসলাম নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানটি বিভিন্ন ধাপে আছে। অনুসন্ধানটি সঠিক পথেই আগাচ্ছে। যখন প্রয়োজন হবে তখন অভিযুক্তদের ডাকা হবে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকলে অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিবেচনা না করার সুযোগ নেই। আদালতের আদেশ প্রতিপালনের জন্য অভিযোগের অনুসন্ধান করতেই হবে। দুদকের কার্যক্রমে ধীরগতি নেই। কমিশনের তথ্য-উপাত্তই বলছে- কমিশনের কার্যক্রমে গতিশীলতা বজায় আছে।

ফাঁদ পেতে ঘুষখোর ধরা (ট্র্যাপ) বন্ধ রয়েছে কি-না- এই প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের ট্র্যাপ নেই। ঘুষ, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে ট্র্যাপ চালানো হবে।