করোনাভাইরাস মহামারিতে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বিদেশি শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুমতি দিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। সেই সাথে লঙ্কাউই দ্বীপে বিদেশি পর্যটকদের অবকাশ যাপনের অনুমোদন দেবে মালয়েশিয়া। শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের। 

প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি বলেন, 'বিদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গাছ লাগানোর কাজের জন্য, একটি পদ্ধতির বিষয়ে শুক্রবার সম্মতি দিয়েছে ‘স্পেশাল কমিটি অব প্যানডেমিক ম্যানেজমেন্ট’।

তবে অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে প্রবাসী শ্রমিকদের কোটা এবং তাদের প্রবেশের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি গ্রীষ্মপ্রধান লঙ্কাউই দ্বীপে বিদেশি কিছু পর্যটককে অবকাশ যাপনের অনুমোদন দেবে মালয়েশিয়া। মহামারীর পর  প্রথমবারের মত এর সীমান্ত বিদেশি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি জানান, কোভিড টিকার ডোজ সম্পন্ন করা বিশেষ পর্যটকদের অনুমোদন দিবে মালয়েশিয়া। তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ থাকতে হবে এবং তাদের ৮০ হাজার ডলারের ভ্রমণ বীমাও থাকতে হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্লাভস এবং আইফোনের যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে বৈধ তালিকায় থাকা প্রায় ২০ লাখ বিদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় কাজ করে।   

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধান শিল্পখাত পাম তেল উৎপাদনের বাগানগলোতে গাছ লাগানোর কাজ এবং রাবার গ্লাভস তৈরির কারখানাগুলো বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বহু শ্রমিক এসব শিল্পে কাজ করেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় ৬ লাখের মতো বাংলাদেশি থাকেন। তাদের কাছ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে।  

গতবছরের শুরুতে করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হলে প্রবাসে থাকা অনেক শ্রমিকের মতো মালয়েশিয়া থেকেও ফিরে আসেন অনেক বাংলাদেশি। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকার বিদেশিদের ফেরার পথ বন্ধ রাখায় তারা বিপাকে পড়েন।