নিউইয়র্কে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা শেষ হলো সোমবার রাতে। সমাপানী অনুষ্ঠানে ২০২২ সালের নিউইয়র্ক বাংলা বই মেলার আহ্বায়ক হিসেবে গোলাম ফারুক ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। মেলার শেষদিনে কথা প্রকাশের সৌজন্যে ঘোষণা করা হয় সেরা প্রকাশনা সংস্থার নাম। 

এবার মেলায় সেরা প্রকাশনা সংস্থা নির্বাচিত হয়েছে ঢাকা থেকে যোগ দেওয়া অনন্যা প্রকাশনী। 

মেলায় এবারের আহ্বায়ক ড. নুরুন নবী পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন অনন্যার সত্ত্বাধিকারী মনিরুল হকের হাতে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফেরদৌস সাজেদীন, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশ্বজিত সাহা, কথা প্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং বাতিঘরের প্রধান নির্বাহী জাফর আহমেদ রাশেদ। 

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশ্বজিত সাহা বলেন, গত ৩০ বছর যাবত আপনাদের ভালোবাসায় এই মেলা কখনও বন্ধ ছিল না। ২০২০ সালে সারা পৃথিবীতে মহামারি এলে আমরা এ আয়োজন করেছি ভার্চুয়ালি। করোনা মহামারি প্রকোপ কমায় আমরা আবার স্বশরীরের শুরু করলাম। আপনাদের ভালোবাসায় তা অব্যাহত থাকবে। 

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফেরদৌস সাজেদীন বলেন, বাংলাদেশের প্রকাশকের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ তারা ব্যবসার কথা চিন্তা না করে বাংলা বইয়ের প্রসার ও প্রবাসীদের চাহিদার কথা গুরুত্ব দিয়েছেন। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের নানা স্টেট থেকে এসে যারা এই মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এই মেলা আজ শেষ হলো।

ঢাকা থেকে যোগ দেওয়া জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর মেলার ভূঁয়সী প্রশংসা করে বলেন, দেশের বাইরে এটাই সবচেয়ে বড় আয়োজন। মানুষের অংশগ্রহণ দেখে আমি রীতিমতো অভিভূত।

পাঁচদিনের মেলায় সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরী কিবরিয়া, শহীদ হাসান, কাবেরি দাশ, নবনীতা চৌধুরী, শাহ মাহবুব এবং পারমিতা মুমু। এবার ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারকে মুক্তধারা-জিএফবি পুরস্কার দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে মেলায় ছিল নানা ধরনের আয়োজন। লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিনের পরিচালনায় দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'একটি দেশের জন্য গান' দেখানো হয় মেলায়। যা আবারও অভিভূত করে দর্শকদের। ছিল সাহিত্য আড্ডা ও সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনও।   

প্রতিদিনই জমজমাট ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। লাগোর্ডয়া ম্যারিয়ট হোটেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলেও মেলার বাকি দিনগুলো ছিল নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে। সেখানে প্রতিদিনই ছিল উপচেপড়া মানুষের ভিড়। পাঠক-লেখক-প্রকাশকদের সেতুবন্ধনের মধ্য দিয়ে মেলা হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত।