যেসব ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা নেই, এস্ক্রো সেবা চালুর পর ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়েতে তাদের গ্রাহকদের আটকে পড়া টাকা আগে ফেরত দেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তাদের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আর এস্ক্রো সেবার আগে প্রতারিত গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে একটি কমিশন গঠন করা হবে।

মঙ্গলবার ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত কমিটি এমন সুপারিশ করেছে। কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন এর প্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কমিটির তৃতীয় বা চূড়ান্ত বৈঠক হয়েছে। বুধবার সুপারিশসহ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হবে। কিছু বিষয় মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে। এস্ক্রো সার্ভিস চালুর পরে যে টাকা আটকে পড়েছে, সেখানে যেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তাদের গ্রাহকদের টাকা দ্রুত ছাড় করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, ই-কমার্স সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে নিয়মিত মামলা আছে চারটি। আর মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত ১১ মামলার তদন্ত চলছে।

ধামাকা, ই-অরেঞ্জসহ বিতর্কিত যেসব ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের মাধ্যমে প্রতারিত গ্রাহকরা এস্ক্রো সার্ভিসের আওতায় পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে টাকা ফেরত পাবে কি-না, তা নির্ভর করছে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর। বুধবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত মতামত পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কমিটির এক সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, আইন মন্ত্রণালয় যদি বলে যে, মামলা থাকা কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের অর্থও পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে ফেরত দেওয়া যাবে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংককে সেই নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গ্রাহকের পন্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার পর অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা রেখে গত ১ জুলাই এস্ক্রো সেবা চালু করা হয়। এর আগে ইভ্যালির মতো কিছু প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ বা টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে তৈরি হওয়া সংকটের মুখে ই-কমার্স নির্দেশিকা জারি করা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহক স্বার্থে চালু করা হয় এস্ক্রো সেবা।

কমিটির প্রতিবেদনে যা রয়েছে: বিভিন্ন পক্ষ থেকে ই-কমার্স নিয়ে আলাদা আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজন নেই বলা হলেও এ কমিটি আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া গত ৩০ জুনের আগে বা এস্ক্রো সার্ভিস চালু হওয়ার আগে যেসব কোম্পানিতে অর্ডার দিয়ে পণ্য বা টাকা কোনোটাই ফেরত পায়নি, এমন প্রতারিত গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের জন্য একটি বোর্ড বা কমিশন গঠনের সুপারিশ করছে কমিটি। বোর্ড গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করবে। কারণ ৩০ জুনের আগে ই-কমার্স কোম্পানিতে অর্ডার করে যেসব গ্রাহক প্রতারিত হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ই-কমার্স লেনদেনে এস্ক্রো সার্ভিস চালুর সার্কুলার জারির পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য ও সেবা অর্ডার করে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক মোট ৫০৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। পণ্য ও সেবা সরবরাহ করায় পেমেন্ট গেটওয়ে কোম্পানিগুলো ২৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ই-কমার্স কোম্পানির অনুকূলে ছাড় করেছে। গ্রাহকদের পরিশোধ করা বাকি ২১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা এসএসএল, সূর্যমুখী লিমিটেড, ফস্টার করপোরেশন, বিকাশ, নগদ ও সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছে জমা আছে।