রাজধানীতে ডেঙ্গু সংক্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি এর আর্থিক ব্যয়ভারও বেশ উদ্বেগজনক। চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ মেটাতে বড় আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে আক্রান্তদের পরিবারগুলো। এরই মধ্যে একজন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় তার পরিবারকে গড়ে ৩৩ হাজার ৮১৭ টাকা খরচ করতে হয়েছে। 

এ ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে রোগীপ্রতি ব্যয় হয়েছে গড়ে ২২ হাজার ৩৭৯ টাকা। আর বেসরকারি হাসপাতালে এটি ৪৭ হাজার ২৩০ টাকা। এ খরচের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও যাতায়াতের খরচ, হাসপাতালের বিল ইত্যাদি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার এক সেমিনারে 'ঢাকায় ২০১৯ সালের ডেঙ্গু সংক্রমণ এবং এর আর্থিক ব্যয়ভার' শীর্ষক এ গবেষণার ফল তুলে ধরা হয়। 

বিআইডিএসের গবেষক ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট এক হাজার ১১৭টি পরিবারের ওপর জরিপের ভিত্তিতে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত একজন রোগীর চিকিৎসায় তার পরিবারের মাসিক আয়ের একটি বড় অংশই চলে গেছে। দরিদ্র পরিবারগুলোতে এটি ছিল মাসিক আয়ের ১৩৯ শতাংশ পর্যন্ত। এ ব্যয় মেটাতে পারিবারিক সঞ্চয় ভেঙে ফেলা ছাড়াও বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এমনকি সম্পদ বিক্রিও করেছে অনেকে।

বিআইডিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে ঢাকায় ১.৮৭ শতাংশ মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। ঢাকা উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এই হার ছিল তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষ, নারী এবং ছোট পরিবারগুলোর মাঝে। যেসব বাড়িতে বাগান রয়েছে এবং মশারি বা কোনো ধরনের মশা নিরোধক পণ্য ব্যবহার করা হয়নি, সেসব পরিবার ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া যেসব পরিবারে খোলা পানির পাত্র রাখা হতো, নিয়মিত ফ্রিজের পানির ট্রে পরিস্কার করা হতো না এবং যারা সকালে পার্কে যেতেন তাদের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল।

পরিবারে ডেঙ্গুর ঘটনায় আর্থিক বোঝা লাঘব করতে 'জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কৌশল' বাস্তবায়ন এবং এডিস মশা নির্মূলে এলাকাভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচি জোরদারের সুপারিশ করেছে বিআইডিএস। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরীতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুরও পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।