বিশ্বের নানা দেশে মাদকরাজ্যে অস্তিত্ব ছিল ভয়ংকর মাদক ডিমেথোপিব্রোমো এমফেটামিন (ডিওবি)। এরপর মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সংশোধিত আইনে এই মাদককে 'ক' শ্রেণির তপশিলভুক্ত করে। শেষ পর্যন্ত সেই ডিওবিই পাওয়া গেল দেশে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) খুলনায় অভিযান চালিয়ে ডিওবিসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে ওই মাদক উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার দুইজন হলেন- আসিফ আহমেদ শুভ ও তার বন্ধু অর্ণব কুমার শর্মা। এ ছাড়া ওই মাদক বহনের অভিযোগে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের খুলনার বয়রা বাজার শাখার ম্যানেজার মামুনুর রশীদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পোল্যান্ড থেকে এসেছিল এই মাদক।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ডিওবি দেশে নিষিদ্ধ মাদক। এটা অনেকটা এলএসডির মতো দেখতে হলেও আরও বেশি ক্ষতিকর। এই মাদক সেবনে মৃত্যু হতে পারে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, ডার্ক ওয়েবসাইট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির (বিট কয়েন) মাধ্যমে ২০০ ব্লট ডিওবি কেনেন খুলনার যুবক আসিফ আহমেদ শুভ। অর্ডার করার পর আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদকের চালানটি সরাসরি তার বাসায় পৌঁছায়। ডাকটিকিটের সাইজে বিশেষ ধরনের কাগজে থাকে এই মাদক। প্রতিটি কাগজকে ব্লট বলে থাকে মাদকের কারবারিরা। গত আগস্ট মাসে একটি কী ওয়ার্ড পেয়ে এই মাদক ধরতে তারা অনুসন্ধান শুরু করেন।

ডিএনসি আরও জানায়, বিমানবন্দরগুলোতে উন্নতমানের স্ক্যানার না থাকায় কুরিয়ারে আসা ডিওবি ধরা পড়েনি। তা ছাড়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় তারাও ধরতে পারেননি। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে এই মাদক অর্ডার করার পর এক মাসের ব্যবধানে শুভর বাসায় কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে যায়।

ডিএনসি ঢাকা মেট্রো উত্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান জানান, বিমানবন্দরগুলোতে শক্তিশালী স্ক্যানার না থাকলেও তাদের নজরদারি থেমে ছিল না। ডিএনসি তৎপর ছিল বলেই নতুন এই মাদক উদ্ধার করা গেছে। গ্রেপ্তারের সময় শুভর বাসায় এলএসডি আর অর্ণবের বাসায় পাওয়া যায় ডিওবি।

ডিএনসি গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে শুভ জানান, তিনি দুই মাস আগে ২০০ ব্লট ডিওবি নিয়ে আসেন। সেগুলো তিনি নিজে সেবন করতেন এবং মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করতেন। নতুন ক্রেতা তৈরি করতে কিছু ব্লট বিনা মূল্যেও দিয়েছেন তিনি। তার কাছে ৯০ ব্লট ডিওবি পাওয়া গেছে। বাকিগুলো বিক্রি ও সেবন করেছেন।

ডিএনসির অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা, খুলনাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন এই ডিওবি চক্রের টার্গেটে। তারা ক্রেতা খুঁজছিল। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বয়রা শাখার ব্যবস্থাপক মামুনুর রশীদ ওই চক্রটির সঙ্গে মিলে বিভিন্ন প্রান্তে এই মাদকের পার্সেল পাঠাতেন।

অভিযানে থাকা ওই কর্মকর্তা বলেন, গোপনে ক্রেতা সেজে তারা পাঁচ ব্লট এলএসডির অর্ডার করেছিলেন। খুলনা থেকে কোনো বাধা ছাড়াই ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের সুন্দরবন শাখায় সেই মাদকের চালান পৌঁছায়। এরপর তদন্ত করে প্রেরক শুভর সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সূত্রেই মেলে নতুন মাদক ডিওবি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা সমকালকে বলেন, ডিওবি প্রায় এলএসডি মাদকের মতো। তবে এর ক্ষতিকারক দিক আরও বেশি ভয়ংকর। এটা রক্তনালি সংকুচিত করে দেয়। দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল করে দেয়।

তিনি বলেন, এই মাদক আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়াসহ উন্নত দেশগুলোতে মাদকসেবীদের ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। তবে দেশে প্রথম এটার অস্তিত্ব মিলল।