সারাদেশে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তহীন হাফ পাসের প্রজ্ঞাপন জারি করাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে 'সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দে'র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এ সময় আগামী শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রতিদিন ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে- বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দেওয়ার বিধান সংবিধানে সংযোজন করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ করাসহ লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালাতে না দেওয়া, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুট ওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিটি সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দেওয়া, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের দায়ভার সরকারের নেওয়া এবং শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের ওঠানোর ব্যবস্থা করা।

সমাবেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ইনজামুল হক রামিম বলেন, ‘গত ৮ নভেম্বর থেকে হাফ পাসের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, ২৩ তারিখে এসে তা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। আমরা ৯ দফা দাবি জানিয়েছি। সরকারের কেউ এসব দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেননি। বরং আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যা আমরা আশা করিনি। দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা অনশনে যেতে বাধ্য হবো।’

আন্দোলনকারী মহিদুল হক দাউদ বলেন, ‘সারাদেশে নিঃশর্ত হাফ পাসের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ৯ দফা দাবির বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’