ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

এসএমইতে কমপ্লায়েন্স নিয়ে সচেতনতা জরুরি

ইআরএফের সেমিনারে বক্তারা

এসএমইতে কমপ্লায়েন্স  নিয়ে সচেতনতা জরুরি

সোমবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুল আলম ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২৩:১৩

পণ্য উৎপাদনে মানসম্মত কাঠামো বা কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে জানেন না ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অনেক উদ্যোক্তা। পরিবেশ-সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্বেগ নিয়েও সচেতন নন তাদের অনেকে। এসব কারণে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর সমস্যায় পড়তে পারে দেশের এসএমই খাত। কাজেই এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে সচেতনতা জরুরি।
গতকাল সোমবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এসএমই খাতের সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীতে ইআরএফ কার্যালয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এসএমই খাত। তবে প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলোর জিডিপিতে এসএমইর অবদান ৪০-৬০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে ৩০ শতাংশেরও কম। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসএমই খাতকে বাধার মুখে পড়তে হয়। 
কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে এসএমই খাতে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিষয়ে অনেক উদ্যোক্তা অবগত নন। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানিতে বাড়তি শুল্কের পাশাপাশি এটিও বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, উন্নত দেশে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য স্থানীয় এসএমই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেয়। এতে একই শিল্পে ছোট-বড় উদ্যোক্তা তৈরি হয়। জাপানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, টয়োটা গাড়ির শুধু ইঞ্জিনটা তৈরি করে কোম্পানি। যন্ত্রাংশ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে থাকে তারা। অথচ বাংলাদেশে দেখা যায় বিপরীত চিত্র। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছোটদের সুযোগ দেয় না, চানাচুর কিংবা মুড়ি থেকে সব কিছুই নিজেরা তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন একটি বড় সমস্যা। 
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি সামির সাত্তার বলেন, এসএমই খাতে অর্থায়নের সুবিধা বাড়ানো ছাড়াও বেশ কিছু পদক্ষেপ দরকার। যেমন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কর-অব্যাহতিসহ নীতি-সহায়তা দেওয়া, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহমুদ হোসেন বলেন, এসএমই খাতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা রয়েছে। একটি ঋণ পেতে অনেক কাগজপত্র চাওয়া হয়। এসব জোগাড় করা অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এ কারণে অনেক ব্যাংকই এসএমই ঋণে আগ্রহী নয়। 
ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মিরধার সভাপতিত্বে সেমিনার পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

আরও পড়ুন

×