বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রথমবারের মতো ইসলামি বন্ড বা সুকুকের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক গ্রুপ বেক্সিমকো এ বন্ড বাজারে এনেছে।

এরই মধ্যে আইপিও এবং প্রাইভেট প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় মোট তিন হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করেছে। এ বন্ডটি বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত হয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে।

বেক্সিমকোর সুকুকটির নাম বেক্সিমকো গ্রিন আল ইস্তিসনা। এর অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বেক্সিমকো সুকুকটি সর্বোচ্চ ১১০ টাকায় কেনাবেচা শুরু হয়।

তবে প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যে এর দর নেমে এসেছিল ১০০ টাকায়। তবে দুপুর সাড়ে ১২টায় ১০৩ টাকা দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ডটি শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য বন্ডটি প্রতি বছর ২০ শতাংশ হারে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে বাজার মূল্যের ২০ শতাংশ ছাড়ে রূপান্তর করা যাবে।

প্রতি বছর এ শরীয়াহ বন্ড থেকে কমপক্ষে ৯ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে। এর সঙ্গে বেক্সিমকো লিমিটেড তার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের যত শতাংশ লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) দেবে- তার ১০ শতাংশের সমপরিমাণ হারে এই বন্ড হোল্ডারদের অতিরিক্ত মুনাফা দেওয়া হবে।

এ সুকুকে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। বেক্সিমকোর শেয়ারহোল্ডাররা প্রায় ২ কোটি টাকা এ বন্ডে বিনিয়োগ করেছিলেন। ব্যক্তির নামে বিনিয়োগ আছে প্রায় ৪২৩ কোটি টাকার। আইপিওর আন্ডাররাইটার (আইপিওতে অবিক্রিত অংশ কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদানকারী) প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ১৩৫ কোটি টাকার।

প্রথম সুকুকের তালিকাভুক্তি উপলক্ষে আজ রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বড় দুটি দুর্বলতা আছে। এর একটি হলো- এ বাজার পুরোপুরি ইক্যুয়িটি (মূলধনী) নির্ভরতা, অর্থাৎ এখানে শুধু শেয়ার কেনাবেচা হয়। দ্বিতীয়ত এ বাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নির্ভর বাজার। এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে বুধবারের বড় দরপতনের পর আজ ঊর্ধ্বমুখী আছে শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২১৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় ৯৮ শেয়ারকে দর হারিয়ে এবং ৬২টিকে দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

বেশিরভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হওয়ার প্রভাব ছিল মূল্য সূচকে। ডিএসইএক্স এ সময় ৩২.৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭০২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

তবে লেনদেনের গতি খুবই কম। আজকের প্রথম আড়াই ঘণ্টায় ৬৩১ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও বন্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে বেপিমকো সুকুরেরই লেনদেন ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকার।