সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক হাইকমিশনার ও পঁচাত্তরের জেলহত্যা মামলার আসামি  মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

তার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দায়িত্বে থাকাকালে দেড় কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, কমিশন মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করা হবে। সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামান দায়িত্ব পালনকালে তার ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। 

অভিযোগটি তদন্তের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রধান হিসাব রক্ষক মো. মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে ও জালিয়াতি ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়। দুদক প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পায়। পরে কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাবেক ওই হাইকমিশনার ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হাইকমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে মেজর (অব:) মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তিনি জেল হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খায়রুজ্জামান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিএনপি সরকার ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জেল হত্যা মামলার চার্জশিটে তার নাম আসলে তাকে সময় ফিলিপাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের  দায়িত্ব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে। পরে তাকে করা গ্রেপ্তার করা হয় ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি জামিনে মুক্ত হন।