কক্সবাজারের টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি নুরুল হক ভুট্টো সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসার অর্থ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রোববার রাতে তাকে কুুপিয়ে জখম করা হয়। এরপর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ৮ টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এই মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়।

নিহত নুরুল হক ভুট্টো (৩৫) টেকনাফের নাজিরপাড়া এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আরো ২ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন ভুট্টোর ফুফাত ভাই আবদুর শুক্কুর (৩৬) ও গুরা মিয়া (৬০)। 

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, ভুট্টো দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় ইয়াবা কারবারি সন্ত্রাসীরা ভুট্টোকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কুপিয়ে ডান পা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। এলাকার আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি মো. একরাম ও তার ভাই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে তাদের লোকজন এই হামলায় জড়িত বলে নিহতের স্বজনরা দাবি করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ভুট্টো টেকনাফের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার উপর হামলাকারীরাও এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদককারবারি। তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের উপর হামলা, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার সন্ধ্যায় টেকনাফের সাবরাং এলাকা থেকে একটি সালিশ বৈঠক শেষে ভুট্টোসহ তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. একরাম ও আব্দুর রহমানের নেতৃেত্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তার উপর ফেলে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। প্রথমে তারা কুপিয়ে দেহ থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে। পরে বুকে, মাথায় ও দুই হাতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার সহযোগীকেও এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় আহতদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভুট্টোকে টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৮টার দিকে পথে তার মৃত্যু হয়। আর আহত অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইফফাত কামাল জানান, একজনের পা বিচ্ছিন্নসহ তিন জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার নেওয়ার পথে একজন মারা গেছে বলে পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, ইউপি নির্বাচনে শত্রুতার জের ধরে তার চাচাত ভাই নুরুল হক ভুট্টোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী একরাম বাহিনী।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।