পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এসএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৫০০ এবং মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৪০০ টাকা করে নির্ধারণ করে। গত ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে তা ১৬ মে পর্যন্ত চলে।

মাটিভাঙ্গা হাজী আবদুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে সম্প্রতি।

কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জামাল হায়দার ও প্রধান শিক্ষক মলয় মালাকার জানান, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে পাওনাসহ ওই পরিমাই টাকা চাওয়া হয়েছে।

উপজেলার রঘুনাথপুর হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী আশ্রাফুর রহমান জানায়, তাদের কাছ থেকে ২১০০ টাকা করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক বিজয় হাতি জানান, অন্যান্য ফিসহ ওই টাকা নেওয়া হয়েছে।

শ্রীরামকাঠি ইউজেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থী মোহনা আক্তার জানায়, সব পাওনা পরিশোধ করা থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৯০ টাকা করে নিয়েছে।

প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ জানান, তিনি বোর্ড ফি এবং সেশন চার্জ বাবদ ৬০০ টাকা করে নিয়েছেন।

গত বছর করোনা মহামারির কারণে এসএসসিতে মাত্র তিন বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি, সেসব বিষয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত পায়ননি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আক্কাছ আলী হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ৭০ শিক্ষার্থী সম্প্রতি ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছে।

গত বছর করোনার কারণে ফরম পূরণের পরও এসএসসির সব বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি। যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হয়নি; সেসব বিষয়ের ফি নিজ নিজ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা বোর্ডগুলো।

শিক্ষার্থী মো. জনি প্রামাণিকের ভাষ্য, টাকা চাইতে গেলে হেড স্যার তাকে অপমান ও ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন এবং বলেন, 'বিদ্যালয়ের বেতন বাবদ ওই টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।' প্রশংসাপত্র আনতে গেলে ওই অতিরিক্ত টাকা প্রাপ্তি স্বাক্ষরসহ আরও ২০০ টাকা আদায় করেন।

শিক্ষার্থী মো. আতিয়ার রহমান বলেন, 'আমার বেতন মওকুফ ছিল। তার পরেও টাকা ফেরত দেননি হেড স্যার। তিনি টাকা আত্মসাৎ করায় আমরা বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছি।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের অনুমতি সাপেক্ষে ফরম পূরণের টাকা দেওয়া হয়নি। এ মর্মে তারা স্বাক্ষরও করেছে। শিক্ষার্থীদের টাকা তাঁর কাছে আছে, কেউ ফেরত চাইলে তা দিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক খান মামুন জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।