গত এক বছরে দেশের বাজারে দফায় দফায় বেড়েছে গুঁড়া দুধ ও শিশুখাদ্যের দাম। এর মধ্যে গত দেড়-দুই মাসেই ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মতো। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা বেশি। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের শিশুখাদ্যের দামও বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে কারণে দেশে দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
রাজধানীর কয়েকটি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সমকালকে বলেন, গত এক বছরে কোনো কোনো কোম্পানি দু-তিনবার করে দুধের দাম বাড়িয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, কিছুদিনের মধ্যে দাম আরেক দফা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজারে আধা কেজি ওজনের ডানো পাওয়ার ব্র্যান্ডের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকায়। যা মাস দেড়েক আগেও কেনা যেত ৩৮০ টাকায়, অর্থাৎ দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। সেই হিসাবে এই ব্র্যান্ডের দুধের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৬০ টাকা। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
দেড়-দুই মাস আগে আধা কেজি ওজনের ডানো ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধের প্যাকেটের দাম ছিল ২৮৫ টাকা। দর বেড়ে হয়েছে এখন ৩১০ টাকা। একই ওজনের ডিপ্লোমা দুধ ৩৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০০ টাকা, ২৮৫ টাকার স্টারশিপের দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩১৫ টাকা। এ ছাড়া একই ওজনের পুষ্টি দুধের দাম ছিল ২৮৫ টাকা, যা এখন হয়েছে ৩১০ টাকা। ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে মার্কস গুঁড়া দুধের দাম এখন ৩৮০ টাকা।
কম ওজনের প্যাকেটের দাম বেড়েছে বেশি হারে। যেমন ১০০ গ্রাম ওজনের এক প্যাকেট ডিপ্লোমা দুধের দাম ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গত এক বছরের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ডানোর দাম ১৪ শতাংশ, ডিপ্লোমা সাড়ে ১২, ফ্রেশ প্রায় ২২ ও মার্কসের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
রাজধানীর তেজকুনিপাড়া এলাকার মা-বাবার দোয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী রতন হোসেন সমকালকে বলেন, দুধের প্যাকেটের দাম মনে রাখাই যেন এখন কঠিন। ১৫ দিন বা এক মাস পর দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। কয়েকটি কোম্পানির ডিলারের বিক্রয় প্রতিনিধিরা তাঁকে জানিয়েছেন, কয়েক দিন পরই আবারও নতুন দামের প্যাকেট আসবে।
এদিকে গত এক বছরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শিশুখাদ্যের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এক বছর আগে এক কেজি ৮০০ গ্রামের ল্যাকটোজেন বিক্রি হতো ২ হাজার ৩০০ টাকায়। সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকায়। ৪০০ গ্রাম ল্যাকটোজেনের কৌটার দাম ছিল ৪৫০ টাকা, যা বেড়ে হয়েছে ৬৭০ টাকা। ৪০০ গ্রাম ওজনের প্রাইমা দুধের দাম ছিল ৪৫০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬২০ টাকায়। পিডিয়াশিওর ব্র্যান্ডের ৯০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। মাসখানেক আগে পাওয়া যেত ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
পারটেক্স স্টার গ্রুপের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের হেড অব বিজনেস সাঈদুল আজহার সরওয়ার সমকালকে বলেন, বছরখানেক আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন গুঁড়া দুধের দাম ছিল আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা ডলার। আর এখন ৪ হাজার ৮০০ ডলার। এ ছাড়া এক বছর আগে প্রতি টন গুঁড়া দুধের জাহাজ ভাড়া ছিল ৫০ থেকে ৬০ ডলার। বর্তমানে ১১০ থেকে ১২০ ডলার।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া দেশে প্যাকেট তৈরির কাঁচামালের দামও বেড়েছে। এসব কারণে গত এক বছর অন্তত চারবার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে গুঁড়া দুধ আমদানিকারকরা। ফলে কেজিতে দাম বেড়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।