মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে শুল্ক্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার বা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহ পর্যায়ে যাতে কোনো ঘাটতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ তাঁদের। তাঁরা মনে করেন, কৃচ্ছতা সাধন এখন মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। সংকটের সময়ে বিলাসী পণ্য কেনা নিরুৎসাহিত করারও পরামর্শ তাঁদের। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বন্যা মূল্যস্ম্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টভিত্তিক মূল্যস্ম্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ হার গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্রামাঞ্চলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ম্ফীতি ৯ শতাংশ ছুঁইছুঁই।
জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চলতি মূল্যস্ম্ফীতির বড় কারণ বৈশ্বিক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি। আমাদের অনেক কিছু আমদানি করতে হয় বিধায় বৈশ্বিক মূল্যস্ম্ফীতির প্রভাব আমরা এড়াতে পারি না বা এড়ানো সহজ নয়। এ অবস্থায় আমদানি পর্যায়ে শুল্ক্ক কমিয়ে বা ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। সরকারকে অবশ্যই সরবরাহ ও মজুতের বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ রাখতে হবে। সরবরাহ পর্যায়ে ঘাটতির কারণে এ মুহূর্তে কোনো পণ্যের দর যাতে না বাড়ে, সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।
এত কিছুর পরও মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে প্রান্তিক মানুষের কষ্ট যাতে খুব বেশি না বাড়ে, সে জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ এ অর্থনীতিবিদের। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বণ্টন যাতে সুষ্ঠু হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান মনে করেন, কভিডের কারণে সরবরাহ চেইনে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা এখনও বিদ্যমান। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ম্ফীতি বেড়েছে। তবে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ম্ফীতি বেড়ে যাওয়াটা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আয়ের বেশিরভাগ অর্থই ব্যয় হয় খাদ্য জোগানের পেছনে। সবাইকে বুঝেশুনে খরচ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ম্ফীতি বেড়ে গেলে চাপ বাড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর। লজিস্টিক সাপোর্টের দুর্বলতার কারণে অনেক খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিদেশ থেকে খাদ্যজাতীয় পণ্য কম আমদানি করে দেশীয় খাদ্যের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত মুনাফার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিতে হবে।
এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি ও বাজার মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ডলারের দাম, জাহাজ ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ম্ফীতি বাড়ছে। মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি কমাতে হবে। এ ছাড়া সব ক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধন করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।