এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য সারাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় মেলাকে ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিক মেলায় রূপান্তর করা হবে। ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনা হচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের 'ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি' বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের জন্য অর্থায়নের পথ সুগম করা। এ ছাড়া দেশে একটি এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা নীতি পরামর্শ দিচ্ছেন। এসএমই দিবস উপলক্ষে সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য দেন।

বিশ্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) দিবস আজ। অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে বিশ্বজুড়ে এ দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

ড. মো. মফিজুর রহমান আরও বলেন, এটুআইর সহযোগিতায় সারাদেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের তথ্যভান্ডার (লাইভ এসএমই ই-ডাটাবেজ) তৈরিতে ঢাকার শ্যামপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় পাইলট কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এসএমই ফাউন্ডেশন এ যাবত প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৪০ হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তা-প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি স্বতন্ত্র এসএমই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি জানান, এসএমই ফাউন্ডেশন ২০১১ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ক্লাস্টারভিত্তিক এসএমই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। ইতোমধ্যে ১৭৭টি এসএমই ক্লাস্টার চিহ্নিত করা করেছে। ক্লাস্টার উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ কার্যক্রমের আওতায় মোট ৭৫টি এসএমই ক্লাস্টারের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি ক্লাস্টারে (কমন ফেসিলিটি সেন্টার, সিএফসি) স্থাপনের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে।

ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, 'নারী আইসিটি ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি' প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার আইসিটি উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি 'উইমেন ইন ট্রেড ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল গ্রোথ' প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মোট ৩০ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের রপ্তানিকারক হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে এবং তাঁরা ২০২৩ সালে নিউইয়র্ক ও টরন্টোতে অনুষ্ঠিত মেলায় অংশ নেবেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. মো. মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বরাদ্দ করা টাকা নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই বিতরণ করা হয়।

বিষয় : এসএমই ফাউন্ডেশন ড. মো. মফিজুর রহমান এসএমই উদ্যোক্তা

মন্তব্য করুন