বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক- এই তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে একই সঙ্গে ২৮টি বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩৬৩ দশমিক ৫৩ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেখানে তারা ১৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। আর এতে কমপক্ষে ৩৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি ও সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (ইজেড)। বেজা গঠিত হওয়ার পর থেকে একসঙ্গে এতগুলো বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন এই প্রথম। এত বেশি পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাবও এর আগে আসেনি।
বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের কাছে এখন স্রোতের মতো বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে অর্থনৈতিক মন্দা থাকার কারণে সেসব দেশ থেকেও বিনিয়োগকারী আসছেন। তাই যাঁরা ইজেডগুলোতে জমি বরাদ্দ নিয়েও শিল্প স্থাপন করেননি, তাঁদের জমি ফিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি সহায়তার চেষ্টা করা হবে বলে জানান বেজার কর্মকর্তারা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আব্দুল মোনেম গ্রুপ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ), কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ফকির নিটওয়্যার, ইসরাক স্পিনিং, ভারতের আরএইচপিএল হেলথ (বিডি)।
সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সেখানে হোটেল ও ট্যুরিজম খাতে ডার্ড গ্রুপ, ইফাদ গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে।
জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ছয়টি বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আকিজ টেক্সটাইল মিলস ও ওয়ালটন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফারভেন্ট মাল্টিবোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে কারখানা স্থাপনের জন্য ৩০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজবার রহমান সমকালকে বলেন, সেখানে গ্লাসওয়্যার জাতীয় পণ্য উৎপাদন করা হবে। প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ করা হবে ৪২০ কোটি টাকা। আগামী দেড় বছরের মধ্যে শুরু করা হবে উৎপাদন কার্যক্রম। উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হলে সেখানে আড়াই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
একই অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ১০ একর জমি বরাদ্দ নিতে চায় ভারতের কোম্পানি আরএইচপিএল হেলথ (বিডি)। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক প্রধান আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কয়েকটি ধাপে বিনিয়োগ করা হবে। প্রথম ধাপে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। ডিটারজেন্ট ও হাইজিন জাতীয় পণ্য উৎপাদন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার লোকের কাজের ব্যবস্থা হবে।
এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন সমকালকে বলেন, শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জমির ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। বেজা বিনিয়োগবান্ধব সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক মন্দা ও মিয়ানমারে সামরিক শাসনের কারণে সেখান থেকে অনেক বিনিয়োগকারী যোগাযোগ করছেন। তাঁরা বিনিয়োগ করতে চান। যাঁরা জমি বরাদ্দ নিয়েও কাজ শুরু করেননি, তাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বরাদ্দ বাতিল করার জন্য।