বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। রপ্তানি টেকসই করতে তাতে বৈচিত্র্য আনার বিকল্প নেই। বাংলাদেশে আসা ইউরোপীয় সংসদের বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধি দল এমন পরামর্শই দিল। তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে যদি বৈচিত্র্য না আসে, তবে তা ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক সুবিধা জিএসপি প্লাস পেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

ঢাকা সফরের শেষ দিনে প্রতিনিধি দলের সদস্য রেপোর্টিয়ার ম্যাপিমিলিয়ান ক্রাহ সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। এটি ভালো লক্ষণ নয়। জিএসপি প্লাস পেতে বৈচিত্র্যের ধরন কেমন হওয়া উচিত- জানতে চাইলে এ সংসদ সদস্য বলেন, একটি পণ্যের ওপর নির্ভরতা ৫০ শতাংশের কম হতে হবে। পণ্যে বৈচিত্র্য থাকতে হবে। এখানে ওষুধশিল্পের অংশ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

১৭ জুলাই ঢাকায় আসে ইউরোপীয় সংসদের ছয় সদস্যের বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধি দল। এ সফরে তৈরি পোশাকশিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শ্রম সংগঠন, সুশীল সমাজ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া টেপটাইল ও ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানায় পরিদর্শন করেছেন তাঁরা। রাতে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁদের।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেছে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, জোরপূর্বক গুম, নাগরিক সমাজের স্থান সংকোচনসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন। আর সে সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন, ইপিজেডসহ সারাদেশে শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে বাংলাদেশ সফররত ইউরোপীয় সংসদের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। এ বিষয়গুলো ২০২৯ সালের পর জিএসপি প্লাসপ্রাপ্তির জন্য জরুরি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধার জন্য জাতিসংঘের ৩০টির বেশি সনদে সই করতে হবে। আর এ জন্য বাংলাদেশকে একটি কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে ইইউ। বাংলাদেশ ও ইইউর বাণিজ্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার। ফলে এসব বিষয় তারা পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

এর আগে বাংলাদেশ সফররত ইউরোপীয় সংসদের বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধি দলের প্রধান হেইদি হাওতালা এক অনুষ্ঠানে বলেন, জিএসপি প্লাস পেতে বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশে উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিকে আমলে নিতে হবে। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দেন তিনি।