দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের সমুদ্রবন্দর এটি। দূরত্ব কমায় ইতোমধ্যে মোংলা বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছেন আমদানি-রপ্তানিকারকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের ২৭টি কারখানার বাচ্চাদের পোশাক, জার্সি, কার্ডিগান, টি-শার্ট, ট্রাউজারসহ বিভিন্ন পোশাকপণ্য নিয়ে পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের উদ্দেশে বন্দর ছেড়ে যায় পানামার পতাকাবাহী জাহাজ মার্কস নেসনা। এর আগে ২৫ জুলাই বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে নোঙর করে বিদেশি জাহাজটি। তিন দিন ধরে এতে পণ্য বোঝাই করা হয়।

মোংলা বন্দরের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১৭টি কনটেইনারে গার্মেন্ট পণ্যসহ মোংলা বন্দর থেকে জাহাজটিতে ২৮৯টি কনটেইনারে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ওঠানো হয়।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, আমদানিনির্ভর বন্দরটিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের মে পর্যন্ত মোংলা জেটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে খালাস করা পণ্যের পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৬ টন। এর বিপরীতে রপ্তানির জন্য কনটেইনারে পণ্যবোঝাই হয়েছে ৬৯ হাজার ৬৫৪ টন।

সিঅ্যান্ডএফ ও শিপিং এজেন্ট সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে জাহাজের চাপের কারণে অনেক সময় পণ্য খালাস বা বোঝাইয়ে সময়ক্ষেপণ হয়। তবে মোংলা বন্দরে সেই চাপ নেই। এই গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানির পর আরও অনেকে এই বন্দর দিয়ে রপ্তানিতে আগ্রহী হবেন।

মোংলা বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তফা কামাল বলেন, আগে ঢাকা থেকে মোংলা আসতে ফেরিঘাটের দীর্ঘ সময় নষ্ট হতো। স্বাভাবিকভাবেই রপ্তানিকারক মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হতেন না। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে ঢাকা থেকে এ বন্দরের দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে দূরত্ব ২৭০ কিলোমিটার। ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকরা বাণিজ্যিক স্বার্থে মোংলা বন্দর ব্যবহার করছেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সড়কপথে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে প্রথম গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি শুরু হলো। গার্মেন্ট পণ্য নিয়ে জাহাজের এ যাত্রা মোংলা বন্দরের জন্য একটি নতুন মাইলফলক। ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানির এ ধারা বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করে চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমানে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৮ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে বন্দরের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।