ইউরোপ ও আমেরিকায় রেকর্ড মূল্যস্ফীতির কারণে ভোগ-চাহিদা কমছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাতেও। প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমছে। অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজার হিসেবে পরিচিত এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানি তুলনামূলক বেশি।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত দুই মাসে ইইউতে পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। কানাডায় বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এ সময় অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রচলিত বাজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে রপ্তানি বেড়েছে অপ্রচলিত বাজারে।

এদিকে মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান বেড়েছে। অপ্রচলিত বাজারের অংশ এখন ১৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল সাড়ে ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে ইইউর অংশ কমে এখন ৪৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫০ শতাংশ। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ২১ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হয়েছে।

পোশাক রপ্তানিতে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে প্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরে অন্যান্য বাজারকে নতুন বাজার বা অপ্রচলিত বাজার বলা হয়ে থাকে। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে পরিমাণে বেশি রপ্তানি হয়- এমন দেশ রয়েছে ১৫টি। এই বাজারগুলোর মধ্যে জাপান সবচেয়ে বড়। গত দুই মাসে দেশটিতে ২২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের একই সময়ের চেয়ে বেশি প্রায় ২৬ শতাংশ। এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় প্রধান বাজার ভারত। দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৯৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া প্রবৃদ্ধির বিচারে সবচেয়ে বেশি ১২১ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে তুরস্কে। যদিও রপ্তানির পরিমাণ খুব বেশি নয়, ৪ কোটি ডলারের মতো।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়ছে। ভারতে আগামীতে আরও বেশি হারে রপ্তানি বাড়বে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রপ্তানি বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশটিতে কিছু নতুন ব্র্যান্ড শোরুম খুলেছে। এ কারণে চাহিদা বাড়ছে।