বড় ধাক্কা খেল দেশের অর্থনীতির দুই প্রধান প্রাণশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। এক বছরেরও বেশি সময় ইতিবাচক ধারায় থাকার পর সেপ্টেম্বর মাসে হোঁচট খেয়েছে রপ্তানি আয়। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছে ছয় শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৩৯১ কোটি ডলারের পণ্য। এ আয় আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ কম। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কম হয়েছে সাত শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২০ কোটি ডলার। এ মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ৩১৬ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৩৪২ কোটি ডলার।

রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

জুন থেকেই রপ্তানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে আসতে শুরু করে। পরের দুই মাসেও এ প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এরই ধারবাহিকতায় সেপ্টেম্বরে ১৩ মাস পর বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি এলো

এর আগে সর্বশেষ গত অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানিতে ১১ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসেবে অবশ্য সার্বিক রপ্তানি এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এসময় সব মিলিয়ে এক হাজার ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক শতাংশের মত কম।

এদিকে পোশাকের বাইরে বড় পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধের রপ্তানি কম হয়েছে। তবে পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও হোম টেক্সটাইল পণ্যের রপ্তানি বেড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানি কমে আসার মূল কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে খাদ্যপণ্যসহ সব পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। এতে প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের ভোগ ক্ষমতা কমে গেছে।

এমন অবস্থায় বেশ কয়েক মাস ধরেই রপ্তানিতে পতনের আশঙ্কা করে আসছিলেন অনেকে। আর ডলারের দর বেঁধে দেওয়াকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার বড় কারণ বলছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হয়। এর আগে কোনো বছর এত বেশি রপ্তানি হয়নি। চলতি অর্থবছরের গত আগস্টেও পণ্য রপ্তানিতে ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে।