চট্টগ্রামে ঋণখেলাপি ১৯০ কোটি টাকা উদ্ধারে বন্ধকি সম্পদের ওপর রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগের পর টনক নড়েছে ঋণখেলাপিদের। আগে বন্ধকি সম্পদ থেকে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করলেও রিসিভার নিয়োগের পর তা নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হয় আট ঋণখেলাপির।

রিসিভার নিয়োগের আদেশের পর অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে ১৯০ কোটি টাকার দেনা ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করে আপস করেন ঋণখেলাপিরা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জজ মুজাহিদুর রহমানের আদালতে উভয়পক্ষ আপোষের আবেদন দিলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

অভিযুক্ত ঋণখেলাপিরা হলেন- মেসার্স জয়নাব ট্রেডিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মাহমুদ, চেয়ারম্যান রাইয়ান পিয়ারা নাহাস, বন্ধকদাতা শাহ ইয়াছিন, শাহ ইমরান, শাহ নেওয়াজ, শাহ মোহাম্মদ আরাফাত, সামশুল আলম ও আয়েশা সিদ্দিকা।

আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রেজাউল করিম জানান, অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়েরের পর ব্যাংকের আবেদনের উপর শুনানি শেষে বন্ধকি সম্পদের উপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগ দেন অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান। তারপর বিবাদীপক্ষ রিসিভার নিয়োগের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলেও উচ্চ আদালত অর্থঋণ আদালতের রিসিভার নিয়োগের আদেশ বহাল রাখেন। ফলে বাধ্য হয়ে ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের সঙ্গে অর্থ পরিশোধ করে আপস করতে বাধ্য হন।

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার পক্ষ থেকে ১৯০ কোটি টাকা ঋণখেলাপির মামলা করা হয়। সেই মামলায় ২০২১ সালের ৮ অক্টোবর রিসিভার নিয়োগ দেন আদালত। এরপর ১৩৮ কোটি টাকার পরিশোধ করে আপস করেন ঋণখেলাপিরা। আদালত আপস মঞ্জুর করে রিসিভার নিয়োগের আদেশ বাতিল করেন।