ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে তৎপর বাংলাদেশ

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে তৎপর বাংলাদেশ

.

মেসবাহুল হক, আবুধাবি থেকে

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪ | ১১:১৮

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর। তাই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামেও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

ডব্লিউটিওর ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ভারত, চীন, জাপান, জার্মানি, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখা, আমদানি সহায়তা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গত সোমবার ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়। গতকাল ছিল সম্মেলনের চতুর্থ দিন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার অন্তত ছয়টি দেশের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সমকালকে বলেন, ‘ডব্লিউটিওর মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে সব দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এখানে নির্ধারিত আলোচনার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সুযোগ থাকে। ইতোমধ্যে  ভারত, চীন, জাপান, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস চীনকে তিনি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার নানা সুযোগের কথা বলেছেন।  একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহায়তার মাধ্যমে আমদানি সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দ্বিপক্ষীয় সহায়তার মাধ্যমে আমদানি সহজ করতে না পারলে কাঁচামাল আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়বে, যা আমাদের অর্থনীতি বিশেষত কর্মসংস্থানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ উপযোগী সুযোগ-সুবিধা দিতে পারলে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বৈঠকে তাদের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বন্দর আধুনিকায়ক ও ডিজিটাল ডকুমেন্টেশনের ওপর জোর দিয়েছে। তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে পণ্য খালাস সহজ হবে। এসব বিষয়ে তারা সহায়তা করতে চান। ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আমদানি সহায়তা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ গুরুত্ব পেয়েছে। 

এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময় মোকাবিলা করার জন্য  নিজেদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা বেশি জরুরি। সরকার সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার ও বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা বহাল রাখা, ক্রেডিট লাইনের আওতায় আমদানি সহায়তার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বিদ্যমান চাপ কমানো এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি । এখন বাংলাদেশকে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য  দ্বিপক্ষীয় আলোচনা খুবই প্রয়োজন, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এখন করছে। 

সম্মেলন এক দিন বাড়তে পারে 

ডব্লিউটিওর ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন গত সোমবার শুরু হয়। চার দিনব্যাপী সম্মেলন বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত সম্মেলনে বেশ কিছু ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি সদস্য দেশগুলো। ইস্যুগুলোর মধ্যে– সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহকে ভর্তুকির বাইরে রাখা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট  চুক্তি এবং ডিজিটাল ট্রানজেকশনের ওপর কর আরোপ করা অন্যতম। বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে সম্মেলনের মেয়াদ আরও এক দিন বাড়তে পারে। 

ডব্লিউটিওর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এবারের সম্মেলনে ১৬৪টি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর নেতৃত্বে আট সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এলডিসি উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা এবং মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত অব্যাহতি বহাল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×