ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

ইরানে বিক্ষোভে গুলি

ইরানে বিক্ষোভে গুলি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ২১:৫৭

পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে ইরানে পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানো হিজাববিরোধী আন্দোলনে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত বুধবার দেশটির অন্তত দুটি শহরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ দাবি করেছে।

নরওয়েভিত্তিক দুটি মানবাধিকার সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করেছে। এতে দেখা যায়, মাহসা আমিনির জন্মস্থান সাকেজ ছাড়াও ইস্পাহান ও কারাজ শহরে বুধবার বিক্ষোভকারীরা হিজাববিরোধী আন্দোলন করছেন। সরকার ও হিজাববিরোধী বিক্ষোভে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। পরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়।

বাধ্যতামূলক হিজাব পরার আইন উপেক্ষা করে রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ করেছেন শত শত নারী। এ সময় তেহরানের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে 'স্বৈরশাসকের মৃত্যু' স্লোগান দিতে শোনা যায়। এএফপি তেহরানের রাস্তায় নারীদের বিক্ষোভের এই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এক ভিডিও টুইট করে ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, দেশজুড়ে চলমান তীব্র প্রতিবাদ ও ধর্মঘটের মধ্যে ইস্পাহান শহরে গুলির শব্দ শোনা গেছে। কুর্দিশ মানবাধিকার সংস্থা হেনগাওয়ের মতে, সাকেজ শহরে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া খেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে গেছে। তবে বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আবারও দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনে 'শত্রুরা' ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে 'বিক্ষোভের মূল হোতাদের' কঠোর শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহশেনি ইজেই। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তিনি সব বিচারককে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও প্ররোচনাদাতাদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইজেইয়ের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ'র প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

ইজেই বলেন, আমি বিচারকদের এই বিক্ষোভে কম দোষী ব্যক্তিদের আলাদা করার সময় মূল হোতাদের প্রতি অপ্রয়োজনীয় সহানুভূতি এড়িয়ে তাদের কঠোর সাজা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। যাদের মধ্যে ২৮ শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া আরও শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করে দেশটির কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিক পুলিশ ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে যান মাহসা। ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পুলিশি নির্যাতনে আমিনির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনার পর ইরানে গত তিন বছরের মধ্যে বৃহত্তম বিক্ষোভ শুরু করেছেন দেশটির তরুণ-তরুণী, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীরা হিজাব খুলে প্রায় প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি হচ্ছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিদ্রোহের পর থেকে দেশটি আর কখনও এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

আরও পড়ুন

×