ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

লকডাউনেই উহানে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে কমেছে, বলছে গবেষণা

লকডাউনেই উহানে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে কমেছে, বলছে গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৪৭

করোনাভাইরাসের উৎসস্থল হুবেই প্রদেশের উহান শহর একদম শুরুর পর্যায়ে লকডাউনে রাখার কারণেই চীনের অন্যান্য অঞ্চলে ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। সম্প্রতি হংকং বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ইউএনবির
চাইনিজ ইউনিভার্সি অব হংকং (সিইউএইচকে) এর তথ্যে বলা হয়, সরকার শুরুর দিকে উহান শহার লকডাউন না করলে হুবেই প্রদেশের বাইরে চীনে ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে পারতো । সেই সঙ্গে হুবেই প্রদেশে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি মানুষ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হতো।
সিইউএইচকে’র সহকারী অধ্যাপক ও অন্যতম গবেষক ইয়াং ইয়াং জানান, গবেষণায় দেখা গেছে উহান লকডাউনের কারণে শহরের বাইরে সংক্রমণের ঘটনা কম ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব প্রয়োগ কৌশলও অবদান রেখেছে।
ইয়াংয়ের মতে, গবেষণার এ ফল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অন্যান্য দেশের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে । তিনি বলেন, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগের মাধ্যমে একটি শহর বা এলাকাকে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।
করোনাভাইরাসের উৎসস্থল উহানে চলতি বছরের একদম শুরুতে লকডাউনের যে ব্যবস্থা জারি করা হয়েছিল, তা আগামী ৮ এপ্রিল থেকে খুলে দিতে যাচ্ছে চীন সরকার।
প্রসঙ্গত, ইউনিভঅর্সিটি অব পেনিসিলভিয়ার হ্যামিং ফ্যাং এবং সাংহাই টেক ইউনিভার্সিটির লং ওয়াংয়ের সাথে হংকং ইউনিভার্সিটির ইয়াং গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট  ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি চীনে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে ৮১ হাজার ৫৫৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে হলেও দেশটির সরকারের নেয়া নানা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সেখানে ভাইরাসের সংক্রমণ তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পেলেও ইউরোপের ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪২ হাজার ৩৪৫ জনের। আর বিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  ৮ লাখ ৬০ হাজার ১৮১ জনে। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৯ জন।


আরও পড়ুন

×